জুলাই ঘোষণাপত্র কোথায়? সশস্ত্রবাহিনীর সংস্কার চাই : লেফটেন্যান্ট ইন্তিসার - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
সড়ক সংস্কারের দাবিতে ইবি শিক্ষার্থীদের কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ ভোলা বরিশাল সেতুর দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা আদর্শিক নেতৃত্বই জাতিকে এগিয়ে নেয়—আফগানিস্তানের উন্নয়ন তার প্রমাণ: মামুনুল হক নোয়াখালীতে তাহাজ্জুদের সময় ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু শেষ হলো কুবির পঞ্চম ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন ভারত অনুমতি না দেওয়ায় বুড়িমারীতে ভুটানের ট্রানজিট পণ্য আটকে অরুণাচলে মসজিদে ঢুকে ইমামকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলাতে চাপ গেজেট বঞ্চনার প্রতিবাদে ইবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘The Voice of JKKNIU’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত

জুলাই ঘোষণাপত্র কোথায়? সশস্ত্রবাহিনীর সংস্কার চাই : লেফটেন্যান্ট ইন্তিসার

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় রবিবার, ৬ জুলাই, ২০২৫
  • ২১১ বার দেখা হয়েছে
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট ইন্তিসার, ছবি: সংগৃহীত
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট ইন্তিসার, ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের প্রতিরক্ষাবাহিনীর সংস্কার চাইলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বরখাস্তকৃত লেফটেন্যান্ট কেএসএম ইন্তিসার ইনজিমাম। নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিস আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি শুধু নিজের নয়, বরং অন্যায়ভাবে চাকরি হারানো শত শত সেনা সদস্যের পক্ষে সরব হন। তার ভাষণে উঠে আসে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, গোপন আটক, মানসিক নির্যাতন ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির বাস্তব চিত্র। গত বছর ৫ই আগস্ট এই সাহসী লেফটেন্যান্ট নিজের ফেসবুক ওয়ালে এক ভিডিও বার্তায় তৎকালীন স্বৈরাচার হাসিনা সরকার পতনে তরুণ সশস্ত্রবাহিনীকে জনতার কাতারে যুক্ত হবার আহ্বান জানান।

ইন্তিসার বলেন, “আমি শুধু একজন বরখাস্ত অফিসার নই, আমি একটি ভবিষ্যতের চিত্র দেখাতে এসেছি—যা আপনাদেরও হতে পারে।” ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে তিনি স্পষ্ট উচ্চারণে বলেন, “আমাদের কণ্ঠরোধ করার যে প্রক্রিয়া চলছে, তা এখন শুধু সেনা বাহিনীর বিষয় নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।”

তিনি জানান, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর তাকে কোনো বিচার ছাড়াই দশ মাসেরও বেশি সময় আটকে রাখা হয়েছিল। “৪৫ দিন একটা রুমে আটকে রেখে কেউ জানতে চায়নি আমি কী করেছি,”—বলেন তিনি। সেখানে তার উপর চলে মানসিক নির্যাতন, তার নামাজ, আজান পর্যন্ত হয় নজরদারির শিকার। আরও বিস্ময়করভাবে, ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে তাকে জঙ্গি আখ্যায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

ইন্তিসারের অভিযোগ, তাকে বরখাস্ত করা হয় কোনো কোর্ট মার্শাল ছাড়াই। বরং কিছু অস্পষ্ট অভিযোগকে সামনে এনে ব্যক্তিগত ভিডিও ও ফোন ব্যবহার করে তাঁর সামাজিক অবস্থান ও মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়।

তিনি বলেন, “আমার মা—যিনি আমার জন্য দোয়া করতেন—তাকে বলা হয়েছে আপনার ছেলেকে ‘মেরে ফেলার অর্ডার’ এসেছে। ফলাফল, তিনি স্ট্রোক করেন।” প্রশ্ন রাখেন, “এটা কি কেবল আমার মা? আগামীতে কি আপনাদের মা এমন নির্যাতনের শিকার হবেন না?”

ইন্তিসার ইনজিমাম তাঁর বক্তব্যে তিনটি স্পষ্ট দাবি তোলেন: ১) তিন প্রতিরক্ষাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংস্কার ২) সংবিধানে সংশোধন এনে মানবাধিকার ও সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষায় আইনগত গ্যারান্টি ৩)জুলাই ঘোষণা পত্র’ প্রকাশ ও ৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া।

তিনি বারবার বলেন, এই লড়াই কেবল সেনা বা নৌবাহিনীর কিছু সদস্যের নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন।

ইন্তিসার অভিযোগ করেন যে, প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সভায় দেশের বেশ কিছু প্রভাবশালী চ্যানেলকে আসতে দেওয়া হয়নি। “হাসিনা-স্টাইল সেন্সরশিপ এখনো চালু আছে,”—বলতে বলতে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আমরা কি ৫ আগস্টে শুধু ঠাট্টা করতে বের হয়েছিলাম?”

তিনি সতর্ক করেন, “যদি জুলাই ঘোষণা না আসে, যদি এই অন্যায়ের ন্যারেটিভ ঠিকভাবে না লেখা হয়, তাহলে দেশের শহীদ সেনারা অকারণে প্রাণ দিয়েছে—এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।”

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভায় ইন্তিসারের বক্তব্য ছিল কেবল এক ব্যক্তির অভিজ্ঞতার আত্মকথন নয়—এটি হয়ে উঠেছে একটি প্রজন্মের কণ্ঠস্বর, একটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির দাবি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—এই দেশ সেনাবাহিনীর গৌরবকে লজ্জায় পরিণত করার জন্য তৈরি হয়নি, বরং এই রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনাই আমাদের সংগ্রাম।

“আসুন, বুকের মধ্যে গুলি দিন, আমরা তবুও আবার জেগে উঠব”—এই বাক্যে শেষ হয় তার দৃপ্ত বক্তব্য।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT