শিক্ষক সংকটে ভুগছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
রাবেয়া পরিবহনের শ্রমিকদের বর্বরোচিত হামলা; রক্তাক্ত দৈনিক রাজবাড়ী কন্ঠের অফিস সহায়ক দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া ঘাটে নেই ভোগান্তি নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের জমকালো আয়োজনে বুটেক্সে শুরু হলো অ্যালামনাই সুপার কাপ রাজবাড়ীর কালুখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু আইসিএমএবি ও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত রাজবাড়ী সদরে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষকের সম্মাননা পেলেন সহকারী অধ্যাপক মাসুদুজ্জামান বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বেত্রাঘাতে হসপিটালে ছাত্র, শিক্ষক অবরুদ্ধ পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে ঝলসে গেলেন মনিরা ড. রশিদুন্ নবীর হাতে উঠছে বাংলা একাডেমির ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৬’

শিক্ষক সংকটে ভুগছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

মোছাঃ মাহমুদা আক্তার নাঈমা, জাককানইবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৫৫ বার দেখা হয়েছে

বিভিন্ন বিভাগে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, বারবার ইউজিসিকে চিঠি দিয়েও শিক্ষক সংকটের সঠিক সমাধান করতে পারছে না ময়মনসিংহে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতিবছর নতুন নতুন বিভাগ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না শিক্ষক সংখ্যা। এ নিয়ে ইউজিসির কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। ইউজিসি বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। অপরদিকে ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া নতুন শিক্ষক নিয়োগও সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় অর্ধেকেরও কম শিক্ষক কর্মরত থাকায় পাঠদান, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে অসম্পূর্ণ সিলেবাস, সেশনজটসহ নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হলেও প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়েও শিক্ষক সংকট কাটেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রকাশনা অনুযায়ী, বর্তমানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ১০ হাজার ৮০৯ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। উচ্চশিক্ষার মানদণ্ড অনুসারে প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য অন্তত একজন পূর্ণকালীন শিক্ষক প্রয়োজন। সে হিসেবে এখানে থাকা উচিত অন্তত ৫৪০ জন শিক্ষক। কিন্তু বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র ২২০ জন। এর মধ্যে আবার অনেকে শিক্ষাছুটিতে থাকায় কার্যত সক্রিয় শিক্ষক সংখ্যা আরও কম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সূত্রে জানা গেছে, ২৬টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের মধ্যে নয়টি বিভাগে শিক্ষক সংখ্যা পাঁচজন বা তারও কম। এর মধ্যে ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজে কোনো শিক্ষকই নেই। পপুলেশন সায়েন্স বিভাগে ৮ জন অনুমোদিত শিক্ষক থাকলেও ৪ জন শিক্ষাছুটিতে থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া দর্শন, মার্কেটিং ও নৃবিজ্ঞান বিভাগে মাত্র ৪ জন শিক্ষক আছেন। ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ৫ জন, পরিসংখ্যান ও ইতিহাস বিভাগে ৩ জন করে শিক্ষক কর্মরত। ব্যবস্থাপনা ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ কার্যত মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বেশকিছু বিভাগে শিক্ষক সংকটের বিষয়ে আমরা অবগত। বিষয়টি নিয়ে বারবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) অবহিত করেছি। একাধিকবার আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়েছে। ইউজিসি আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া নতুন শিক্ষক নিয়োগ সম্ভব নয়।”

অথচ ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি বিভাগে অন্তত ১৫ থেকে ১৬ জন শিক্ষক প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিন-চারজন শিক্ষক দিয়ে একাধিক কোর্স পড়ানো সম্ভব না হওয়ায় বাইরে থেকে শিক্ষক এনে ক্লাস নিতে হয়। এতে অনেক কোর্সের সিলেবাস অসম্পূর্ণ থেকে যায়, পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ বিলম্বিত হয়। অনেক সময় কোর্স শেষ না করেই পরীক্ষা দিতে হয়।

মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাতুল রহমান বলেন, “শিক্ষক সংকট একজন শিক্ষককে অতিরিক্ত সময় ব্যয়ে বাধ্য করে। এতে পাঠদানের মান কমে যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য জ্ঞান উৎপাদন ব্যাহত হয়।”

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইউসুফ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না। এতে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছি। বিভাগে অভিযোগ জানালে শিক্ষক সংকটের কথা বলা হয়।”

এ নিয়ে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুল মোমেন বলেন, “প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য অন্তত একজন পূর্ণকালীন শিক্ষক প্রয়োজন। অথচ অনেক বিভাগে কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দুই থেকে চারজন শিক্ষক কর্মরত। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আদর্শ অনুপাত উপেক্ষিত হচ্ছে। আমাদের মার্কেটিং বিভাগে মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে ৫টি ব্যাচের ২৫টি কোর্স নেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। অতিরিক্ত কোনো ইভেন্ট, সেমিনার বা গবেষণা কার্যক্রম আয়োজনও সম্ভব হচ্ছে না।”

ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, “শিক্ষকরা জ্ঞান বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু সংকটের কারণে একজন শিক্ষককে একসাথে ক্লাস, খাতা মূল্যায়ন, গবেষণা, প্রশ্ন তৈরি এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, কোয়ালিটি এডুকেশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একইসাথে ইউজিসি নির্দেশিত ওবিই বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়ছে।”

শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা সময়মতো কোর্স শেষ করতে পারছেন না। নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ায় মানসম্মত শিক্ষা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে শুধু সেশনজটই নয়, গবেষণা কার্যক্রম ও নতুন শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মান হারানোর আশঙ্কার মুখে পড়ছে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT