নয়াদিল্লিতে প্রথমবারের মতো জামদানি প্রদর্শনী আয়োজন করল বাংলাদেশ হাইকমিশন - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
সিঙ্গাপুরে আজিজ খান ও এস আলম এর সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দ রাশিয়ার বৈদেশিক ঋণ ২০ বছরের সর্বোচ্চ, যুদ্ধ ব্যয় ও বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি ঢাকা-৮ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ, শপথ স্থগিতের আবেদন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে ইমরান খানকে, মেডিকেল বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত ঢাকায় প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এর ঢাকার পাশে থাকার অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের কার্নিশে ঝুলন্ত আমিরকে গুলি, রামপুরার মানবতাবিরোধী মামলার রায় ৪ মার্চ পিনাকী-ইলিয়াসের ভরাডুবির কারণ বিশ্লেষণ ৩৩,৩০০ দরিদ্র পরিবারের জন্য ২৩৩ মেট্রিক টন ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত করছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন হেফাজত অভিনন্দন জানাল তারেক-বিএনপি-কে, নতুন সরকারের জন্য সুশাসনের আহ্বান

নয়াদিল্লিতে প্রথমবারের মতো জামদানি প্রদর্শনী আয়োজন করল বাংলাদেশ হাইকমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১২০ বার দেখা হয়েছে

ন্যাশনাল ক্রাফটস মিউজিয়ামে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে প্রদর্শনী, যেখানে দেড়শ’ বছরের পুরনো জামদানিসহ খ্যাতনামা কারিগরদের বোনা জামদানি প্রদর্শিত হবে

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ক্রাফটস মিউজিয়ামে প্রথমবারের মতো জামদানি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উদ্বোধন হওয়া এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রসিদ্ধ বস্ত্রশিল্প জামদানির নান্দনিকতা সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়ে দর্শনার্থীরা ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। প্রদর্শনীতে দেড়শ’ বছরের পুরনো দুটি দুর্লভ জামদানিসহ খ্যাতনামা কারিগরদের বোনা নতুন জামদানিও স্থান পেয়েছে। এছাড়া জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কারিগর মোহাম্মদ জামাল হোসেন ও মোহাম্মদ সজীব প্রদর্শনীর সময় বসেই বুনন প্রক্রিয়া দেখাচ্ছেন, ফলে দর্শনার্থীরা শিল্পটির সূক্ষ্মতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাচ্ছেন।

প্রদর্শনীটি ভারতের কারুশিল্প ও বস্ত্র সংরক্ষণকর্মী চন্দ্রশেখর ভেদার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মেশিনে এ ধরনের বুনন সম্ভব নয়, জামদানির সূক্ষ্মতা বাতাসে বোনা শিল্পের মতো।

বাংলাদেশের হস্তশিল্প পুনর্জাগরণ আন্দোলনের অগ্রপথিক ও আড়ংয়ের সাবেক ডিজাইন প্রধান চন্দ্রশেখর সাহা বলেন, একসময় বাংলার মসলিন বিশ্বসেরা ছিল। সেই ধারার ওপর দাঁড়িয়ে জামদানি আজও মর্যাদার প্রতীক। পদ্মশ্রী জয়ী ডিজাইনার সুনীতা কোহলি জামদানিকে ‘অমূর্ত বিলাসিতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইউনেস্কো একে অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ঘোষণা করেছে, যা মূল্য নয় বরং সময়, ধৈর্য ও কারিগরের হাতের কৌশলে মাপা যায়। খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ডিজাইনার মুজাফফর আলি মন্তব্য করেন, জামদানি আলো ও বুননের এমন এক সৌন্দর্য, যা জাতিগুলোকে একত্র করতে পারে।

প্রদর্শনীর মূল পরিকল্পনাকারী ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম. রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানান, এ বছরের স্বাধীনতা দিবসের প্রদর্শনীতে মানুষের বিপুল সাড়া দেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার মতে, এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষ জামদানির অনন্ত সৌন্দর্য আবিষ্কার করতে পারবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও দেশি-বিদেশি বস্ত্রবোদ্ধাদের উপস্থিতিতে প্রদর্শনীটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। আয়োজকরা মনে করছেন, এটি দুই দেশের সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন ও ঐতিহ্যের সম্মিলিত উদযাপন হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT