বিকেল থেকে শুরু হচ্ছে জাকসু নির্বাচনে প্রচারণা এখনো হল ছাড়েনি  মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
আওয়ামী দোসরদের নতুন জোট এনডিএফ–এর আত্মপ্রকাশ তুরস্কের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কুবির সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর কওমি ডিগ্রিধারীদের জন্য কাজী হওয়ার দরজা খুলল; আরও সরকারি খাত উন্মুক্তের দাবি সীমান্তে তীব্র গুলি বিনিময়, পাকিস্তান–আফগানিস্তান উত্তেজনা চরমে জাককানইবিতে সমুদ্র ও জলবায়ু–বিষয়ক ‘Exploring the Blue Earth’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত দুধকুমার নদে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপ, স্বস্তিতে তীরবর্তী বাসিন্দারা ইবিতে জুলাই বিপ্লববিরোধী অভিযোগে ফের ৯ শিক্ষক বরখাস্ত নানিয়ারচর জোন (১৭ই বেংগল) এর মানবিক উদ্যো‌গে বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম নির্বাহী পরিচালক হলেন মো. সাদি উর রহিম জাদিদ আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে ইবিতে আলোচনা সভা

বিকেল থেকে শুরু হচ্ছে জাকসু নির্বাচনে প্রচারণা এখনো হল ছাড়েনি  মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা

মো: নিশান খান, জাবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৬ বার দেখা হয়েছে
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে ১১ সেপ্টেম্বর।  আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টা থেকে শুরু হচ্ছে জাকসু নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রচারণা অথচ হলে এখনো অবস্থান করছেন মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা। এদিকে সংকট সমাধান না করে প্রশাসন একে অপরকে দোষারোপ করছে।
 নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ইতোমধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ও চূড়ান্ত আচরণ বিধি প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমাদান শেষ ও হয়েছে গত ২১ আগস্ট। প্রকাশ করা হয়েছে খসড়া প্রার্থী তালিকা । ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব কাজ ঠিকঠাক চললেও আবাসিক হল থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বের করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আবাসিক হলগুলোতে প্রায় ১ হাজার মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থী রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকে। তাই সুষ্ঠু জাকসু নির্বাচনের অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হলে হলে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট তফসিল ঘোষণার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে ১৬ আগস্ট বিকালের মধ্যে হল থেকে মেয়াদউত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বের হওয়ার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। তবে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বের না হলে ১৬ আগস্ট রাতে মেয়াদউত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করতে আ. ফ. ম. কামাল উদ্দিন হলে অভিযান পরিচালনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসময় হল প্রশাসন বেশ কিছু রুম সিলগালা করে দেন। তবে এক পর্যায়ে হল প্রশাসনের কাজে বাধা দেয় মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা। তারা হল থেকে বের হতে অস্বীকৃতি জানায়। সেইসাথে প্রশাসনকে নানা শর্ত জুড়ে দেন।
তবে এরপরেও অভিযান অব্যাহত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছেলেদের ১১ টি হলে অভিযান শেষ করেছে হল প্রশাসন । তবে হলগুলো থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বের করতে পারেনি তারা। উলটো প্রশাসনের সিলগালা করা রুমে তালা ভেঙে প্রবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা।
হল প্রভোস্টের সূত্রে জানা যায়, বেশিরভাগ হল থেকে ২০১৫–২০১৬ ও ২০১৬–২০১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা নোটিশের পর চলে গেছে। তবে ২০১৭-২০১৮ ও ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বের হতে চাইছে না। তারা দুই বছর পরে হলে সিট পেয়েছে এবং ছাত্রলীগের আমলে গণরুমে ছিল এমন অজুহাতে আরো কিছুদিন হলে থাকতে চাইছেন।
এদিকে পুরাতন হলগুলোতে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের তালিকা থাকলেও নতুন তিনটি হলে তা নেই। প্রভোস্টদের কাছে যে তালিকা আছে এর বাইরেও অনেক মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থী রয়েছে হলগুলোতে। মূলত ৫ আগস্টের পর ছাত্রলীগের ব্লকে অবস্থান করা অনেকে ফিরতে পারেনি নিজ হলে। তবে সরাসরি হামলায় জড়িত নয় এমন অনেকে এসে নতুন হলের ফাঁকা রুমগুলোতে উঠেছে। এমন অবস্থায় জাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
এদিকে গত ২৫ আগস্ট হলে অবস্থান করা ২০১৭–২০১৮ ও ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসে উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানসহ প্রশাসনের অন্যান্যরা। এসময় মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা অক্টোবর পর্যন্ত হলে অবস্থান করার দাবি জানান। সেই সাথে নির্বাচনের প্রচারণাকালীন সময়ে হলে অবস্থান করবেন না বলেও জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাধিক ব্যক্তি জানান, হলগুলোতে অছাত্র রেখে জাকসু নির্বাচন সম্ভব নয়। সেই সাথে তারা অভিযোগ করেন জাকসুর কোন প্রার্থী বা প্যানেল তাদেরকে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বের করতে সহায়তা করছে না। তারা কেবল মুখে মুখে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বের করার কথা বলে কিন্তু জনপ্রিয়তা হারানোর ভয়ে সরাসরি সহায়তা করেনা। এমনকি মুখের কথা ও বলছে না। অনেক প্রার্থীর বন্ধুরা আছে এই তালিকায়। অনেকদিন ধরে চলে আসা এই সংস্কৃতি বন্ধে সবাই একযোগে কাজ না করলে এটি সম্ভব নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একজন জানান,মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে না। তাই তারা যেকোনো অবৈধ কাজে জড়িয়ে যেতে পারে। তাই নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে যেকোনো দল এই মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন করতে গেলে অবশ্যই কেবল ভোটারদের হলে অবস্থান করতে হবে।
হলে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থী রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে শাখা ছাত্রদলের
 আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, জাকসু নির্বাচনের আগে হল থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বের করতে হবে। তাদেরকে হলে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মহিবুর রহমান মুহিব বলেন, নির্বাচনের আগে হলগুলো থেকে অবশ্যই মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বের করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো কার্যকরী উদ্যোগে আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমাদের সাবেক শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হলে তার পরিণাম ভালো হবে না।
এ বিষয়ে প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবেদা সুলতানা জানান, আমরা ছেলেদের প্রত্যেকটা হলে অভিযান পরিচালনা করেছি। অনেকে স্বেচ্ছায় হল ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকে হলে অবস্থান করছেন। উপাচার্য স্যারের সাথে তারা মিটিং করেছেন। স্যারকে তারা কিছু দাবি জানিয়ে। স্যার নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলে তাদের জানাবেন বলেছেন।
মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থান এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা প্রশাসনকে এ বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশন কখনো মৌখিকভাবে কোনো নির্দেশনা দেয় না; যা দেওয়ার সবই আমরা লিখিতভাবে প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান এ বিষয়ে বলেন, “এগুলো মূলত নির্বাচন কমিশনের কাজ। তোমরা নির্বাচন কমিশনকে প্রচন্ডভাবে চাপ তৈরি করো।নির্বাচনের সময়ে প্রশাসনকে চুপ থাকতে হয় এটাই নিয়ম। আমি যদি সরাসরি কিছু বলি, সেটি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ইন্টারফেয়ারেন্স হয়ে যাবে। তবে কমিশন চাইলে আমি অবশ্যই তাদের সহযোগিতা করব। মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা হলে থাকতে পারবে না। যদি তারা থেকে যায় এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তবে তার দায়ভার নির্বাচনকে জটিল করে তুলবে। আমি ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করছি। নির্বাচনের সময় চালাকি করে হলে থাকার কোনো সুযোগ নেই।”

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT