গাজার ভয়াবহতা সইতে না পেরে ইসরায়েলি সেনার আত্মহত্যা - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
পরিকল্পিত যাকাত বণ্টনে ১০–১৫ বছরে দারিদ্র্য কমানো সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী ইবি শিক্ষিকা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তা বরখাস্ত ড্রোন হামলার আশঙ্কা, বন্ধ দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইরানের হামলায় তেল আবিবে আতঙ্ক: মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে আন্ডারগ্রাউন্ডে গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্র হত্যা: গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় রনিকে মেরে লাশ পুড়িয়ে দেয় ছাব্বির কুবিতে প্রথমবার জাতীয় বিতর্ক উৎসব, অংশ নেবে ৫৬টি দল আত্রাইয়ে স্ত্রী–সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, পরে স্বামীর আত্মহত্যা নিজ অফিসে ইবি শিক্ষিকাকে হত্যার বিচারের দাবিতে ইবিতে বিক্ষোভ মিছিল কুবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য আটক ইবিতে শিক্ষিকা খুন, কর্মচারীর আত্মহননের চেষ্টা

গাজার ভয়াবহতা সইতে না পেরে ইসরায়েলি সেনার আত্মহত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫
  • ১৪৯ বার দেখা হয়েছে

গাজার নিষ্ঠুরতা ও লেবাননে যুদ্ধক্ষেত্রে দেখা ভয়াবহতার মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করলো ইসরায়েলি সেনা রিজার্ভ সদস্য ড্যানিয়েল এডরি। ২৪ বছর বয়সী এডরি শনিবার ভোরে ইসরায়েলের সাফাদ শহরের কাছে এক জঙ্গলে তার গাড়ির ভেতরে আগুন লাগিয়ে নিজের জীবন শেষ করে।

ড্যানিয়েল দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে রিজার্ভ ডিউটিতে গাজা ও লেবাননে দায়িত্ব পালন করে। সে মূলত সেনা সরবরাহ ও নিহত ইসরায়েলি সেনাদের মৃতদেহ পরিবহনের দায়িত্বে ছিলো। এসময় দেখা ভয়াবহ দৃশ্য ও লাশের গন্ধ তার মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। বারবার যুদ্ধক্ষেত্রের স্মৃতি, পোড়া দেহের গন্ধ আর দগ্ধ লাশের দৃশ্য তাকে তাড়িয়ে বেড়াতো।

তার মা সিগাল এডরি জানান, “সে বলতো, মা আমি সবসময় পোড়া দেহের গন্ধ পাই। রাতে ঘুমের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্র ভেবে হঠাৎ জেগে উঠতো। সবসময় আশঙ্কায় ছিলাম, একদিন না একদিন এটা হবেই।”

ড্যানিয়েলের মানসিক অবস্থার অবনতি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় তার দুই বাল্যবন্ধুর মৃত্যুতে। এরপর রিজার্ভ ডিউটিতে গাজা ও লেবাননে গিয়ে মৃত্যুর বিভীষিকা সহ্য করতে না পেরে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সম্প্রতি ডিফেন্স মিনিস্ট্রির পুনর্বাসন বিভাগে পিটিএসডি (পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার) রোগী হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার আবেদন করেন। ফেব্রুয়ারিতে তাকে মানসিক সমস্যা রয়েছে বলে স্বীকার করা হলেও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

পরিবার জানায়, এডরি সামরিক কর্তৃপক্ষের পুনর্বাসন প্রোগ্রামের নানা সেবা নেওয়ার প্রস্তাব পেলেও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেননি। আত্মহত্যার আগের রাতে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে শেষ বার্তায় লিখে যান, “ক্ষমা করে দিও, দুঃখিত।”

পরদিন সকালে তার ভাই যখন মেসেজ দেখে ফোন করেন, তখনই এডরির শেষ নিঃশ্বাসের শব্দ শোনেন।

এডরির মা এখন দাবি করছেন, “সে সামরিক দায়িত্ব পালনে তার জীবন দিয়েছিল। তাকে সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হোক। জীবনটা তারা বাঁচাতে পারেনি, অন্তত মর্যাদা যেন কেড়ে না নেয়।” তবে আইডিএফ (ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স) জানায়, নিয়ম অনুযায়ী কেবল সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাদেরই সামরিক মর্যাদায় দাফনের সুযোগ রয়েছে। যেহেতু ড্যানিয়েল আত্মহত্যার সময় রিজার্ভ ডিউটিতে ছিলেন না, তাই তার এ সুযোগ নেই।

তবে সমালোচকরা বলছেন, একই ধরনের ঘটনায় গত বছর আরেক রিজার্ভ সেনা এলিরান মিজরাহিকে পরে সেনাবাহিনীর তদন্তে ‘শহীদ’ ঘোষণা করা হয়েছিল। তাই ড্যানিয়েলের ক্ষেত্রেও একই দাবি জোরালো হচ্ছে।

এডরির ঘটনায় নতুন করে ইসরায়েলি সমাজে গাজা যুদ্ধের মানসিক প্রভাব, সেনাদের হতাশা এবং সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশটিতে ১ লাখের বেশি মানুষ গাজা যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট মানসিক রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

গাজা আগ্রাসনে ৬১ হাজার ৭০০’র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আর গণহত্যার নিন্দা উপেক্ষা করেও ইসরায়েলি সরকার ও সেনাবাহিনী আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট যে, যুদ্ধের ভয়াবহতার শিকার শুধু গাজা নয়, ইসরায়েলি সমাজও ভেঙে পড়ছে মানসিকভাবে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT