
মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বড় সিদ্ধান্ত নিল ইরান। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেবে না দেশটি—এমন ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনজামালি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনজামালি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু এই হামলার সঙ্গে জড়িত এবং একই দেশ বিশ্বকাপ আয়োজন করছে, তাই সেখানে খেলতে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তার ভাষায়,
“এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মাসে ইরানের ওপর দুই দফা যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং হাজারো নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জাতীয় দলের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলার পর ইরান বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সংঘাতের জেরেই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, যা এখন প্রায় নিশ্চিতভাবে শেষ হয়ে গেল ইরানের ঘোষণার মাধ্যমে।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ১১ জুন থেকে শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই আসর।
এর আগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, ইরান চাইলে বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে এবং যুক্তরাষ্ট্রও তাদের স্বাগত জানাবে। কিন্তু তেহরানের এই ঘোষণায় টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল বিশ্বকাপ থেকে সরে গেলে বিকল্প দল নির্বাচন করার পূর্ণ ক্ষমতা ফিফার হাতেই থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, সে ক্ষেত্রে এশিয়ার অন্য কোনো দল—যেমন ইরাক—অথবা প্লে-অফে থাকা কোনো দল সুযোগ পেতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।