নোটিশ:
শিরোনামঃ
দাবা অলিম্পিয়াডে গুয়াতেমালাকে হারাল বাংলাদেশ মহেশখালীতে এলএনজি স্থানান্তর শুরু, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক ফার্মাসিস্টকে ওষুধ বিক্রেতা নয়, স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে দেখতে হবে লন্ডনে ১ নভেম্বর ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’, ঐতিহ্য-ব্যবসা ও কমিউনিটি ঐক্যে জোর কুবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ৫ ফেব্রুয়ারি এশিয়ান গেমস হকিতে শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলে হারাল বাংলাদেশ অপ্রতিমের রুহের মাগফিরাত কামনায় কুবিতে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে আর আড়ালে রাখা যাবে না রাজবাড়ীতে বিদ্যুতের খুঁটি নিয়ে বিরোধ, চার পরিবারের পথ বন্ধের অভিযোগ ইবির আইন অনুষদ থেকে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৯ জন

যে হোটেলের সবাই টুপি পরে

সিনান সাবিত
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৮২৯ বার দেখা হয়েছে
IMG_20250714_070849

সাত সকালে না খেয়ে তড়িঘড়ি করে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি পৌঁছে যখন টের পেলাম যে প্লেন ধরতে কোনো সমস্যাই হবে না তখনই পেটের ভেতর ছুঁচোর কীর্তন টের পেলাম। ঘড়িতে দেখলাম জলখাবারের বিলাসিতাটুকু সেরে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময়ও হাতে আছে। আশেপাশে কোনো ভালো হোটেল আছে কিনা জিজ্ঞেস করায় ড্রাইভার আমাদেরকে (আমি আর আমার স্ত্রী) একটা হোটেলে নিয়ে গেল। জায়গাটা উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টর। এখানকার এক শান্ত কোণে পথিকের জন্য ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে ‘মায়ের দোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’।

টুপি পরা এক ওয়েটারের ছবি

টুপি পরা এক ওয়েটার শান্তভাবে খাবার সার্ভ করছে

হোটেলটিতে ঢুকেই চোখে পড়ল এক অদ্ভুত অথচ মন ভালো করা দৃশ্য। প্রতিটি স্টাফ—রাঁধুনি থেকে শুরু করে ওয়েটার, এমনকি ক্যাশিয়ার পর্যন্ত—সবার মাথায় টুপি। বিষয়টি চোখে পড়ার মতোই। কৌতূহল চাপতে না পেরে জানতে চাইলাম কারণ।

হোটেলের ক্যাশিয়ার মো. মানিক জানালেন, “টুপি পরা তো নবীজির (সা.) সুন্নাত। আমাদের মালিক নিজেও ধর্মপরায়ণ মানুষ। তিনি বারবার নামাজের কথা না বলে এমন একটা পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছেন, যেখানে স্টাফদের জন্য নামাজে যাওয়া সহজ হয়। মাথায় টুপি থাকলে অন্তত নামাজে দাঁড়ানোতে আর দেরি হয় না।”

আমাদের খাবার পরিবেশন করছিলেন যে ওয়েটার, তাকেও জিজ্ঞেস করলাম। তিনি হেসে বললেন, “আমাদের টুপি পরায় দুইটা সুবিধা হয়। এক, এটা তো ধর্মীয় দিক থেকে ভালোই। দুই, রান্না বা পরিবেশনের সময় খাবারে চুল পড়ার ঝামেলাও থাকে না।”

একটা সাধারণ হোটেলের এই অসাধারণ ভাবনা সত্যিই মনে রেখাপাত করল, ভাবাল মালিকের দৃষ্টিভঙ্গি। আর মন ছুঁয়ে গেল খাবারের স্বাদও। বিশেষ করে তাদের দুধ চায়ের কথা আলাদাভাবে বলতেই হয়—চায়ের কাপের ধরণ থেকে শুরু করে স্বাদের গভীরতা, সবকিছুই ছিল অসাধারণ। পরোটার সঙ্গে দেওয়া ডিমভাজিও ছিল চমৎকার।

স্টাফদের শান্ত, নম্র আচরণের বিষয়টিও উল্লেখ করার মতো। সব মিলিয়ে জায়গাটি বেশ ছিমছাম, নিরিবিলি এবং আপন আবহে ভরা। যদি কখনো উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের আশেপাশে যান, ‘মায়ের দোয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’-এ একবার ঢুঁ মেরে আসতেই পারেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT