নোটিশ:
শিরোনামঃ
নগরের নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা জনস্বাস্থ্যনীতিরও অংশ ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ধোঁয়াশা, সাত প্রদেশে শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত তিন লাখের বেশি নেপালের বন্যা পুনর্গঠনে জাতিসংঘ তহবিলের ২ কোটি ডলারের প্রাথমিক বরাদ্দ হরমুজ প্রণালিতে অক্টোবরে জাহাজে হামলার রেকর্ড, বাড়ছে নৌবাণিজ্যের ঝুঁকি ইউরোপের গ্রীষ্মের তাপে ৫০ হাজারের বেশি মৃত্যুর হিসাব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাডমিন্টন উন্নয়নে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা, দেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের লক্ষ্য সুন্দরবনের প্রতিবেশে শিল্পকারখানার বায়ুদূষণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার খবর ডেঙ্গু প্রতিরোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ ডেঙ্গুতে আরও তিন মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ১২৯৯ রোগী

কেন আমি আমার বাচ্চাকে ‘গ্যাজেট’ দেবো না, স্বাধীনতা দেবো না।

প্রতিবেদকের ছবি
বাদল সাঈদ
  • আপডেট সময় বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫
  • ২৬৫ বার দেখা হয়েছে
গ্যাজেট
আমি অবশ্যই স্টিভ জবস বা বিল গেটসের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান না।তাঁরা যদি তাঁদের বাচ্চাদের নিজেদের আবিষ্কার ব্যবহার করতে না দেন, আমি দেবো কেন? এরা তাঁদের বাচ্চাদের এগুলো দিচ্ছেন না মানে বাচ্চাদের জন্য তা উপযুক্ত নয়।
ভেরি সিম্পল ইকুয়েশন! আমার আর কোনো কিছু বোঝার দরকার নেই ।
অনেকেই বলবেন, এখন তো বাচ্চাদের ইন্টারনেটে অনেক কিছু করতে হয়—-
আমি হাত বাড়িয়ে বলছি, প্লিজ থামুন।
হ্যাঁ, বাচ্চাদের দরকার আছে। কিন্তু তা স্মার্ট ফোন বা ট্যাবে নয়। তারা দরকারি কাজ করবে ডেস্কটপে। এমনকি ল্যাপটপেও নয়, এবং তারা তা করবে রুমের দরজা খুলে, বন্ধ করে নয়।
আমার অভিজ্ঞতা বলে, বাচ্চার ঘরের দরজায় খিল দেয়া অ্যালাউ করা মানে তার ভবিষ্যতের দরজায়ও খিল দিয়ে দেয়া।
আপনি যদি বাংলাদেশের সব মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে যান, শতভাগ, আবার বলছি, শতভাগ কেইস পাবেন, যেখানে বাচ্চারা খিল দেওয়া দরজার ওপাড়ে সময় কাটাতো।
বাচ্চার প্রাইভেসি?
ব্যক্তিগতভাবে তার শিক্ষাজীবন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি তার প্রাইভেসির ‘গুল্লি’ মারার পক্ষে।
ছাত্রজীবনে বিশ বছর প্রাইভেসি বিসর্জন দিয়ে সে বাকী ষাট-সত্তর বছর ‘রাজকীয়’ প্রাইভেট জীবন কাটাবে এটাই আমি চাই।তাই গুল্লি মারি তার প্রাইভেসির।

আবার আসি, কেন আমি কেন তাকে ‘গ্যাজেট’ দেবো না।

সিম্পল উত্তর-এর নির্মাতারাই দেননি, আমি কেন দেবো?
তারা কি আমার চেয়ে কম বুঝেন?
এছাড়াও কিছু উত্তর আছে—
১। ট্যাব বা স্মার্ট ফোনে আসলে গেইম খেলা, ফেইসবুকিং, চ্যাট, ইনস্টাগ্রাম ছাড়া আর কিছুই বাচ্চারা তেমন করে না। আপনি কারো হাত থেকে এ দুটো বস্তু নিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন। যদি এর হিস্টরি বলে যে, গত কয়েকদিন এর বেশির ভাগ ভালো কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, বাঙালির খাস ভাষায় বলি, তাহলে আমি ‘কান কেটে কুত্তারে খাওয়াবো।‘
২। আরো ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে—আপনি দেখবেন এগুলোর ‘ইতিহাসে’ আরো খারাপ কিছু দেখার কথাও লেখা আছে। এত্ত খারাপ যা আমি বা আপনি চিন্তাও করতে পারি না। এটাই বাস্তব।ইন্টারনেটের মতো ভালো আবার একই সাথে খারাপ শিক্ষক আর কেউ নেই।
৩। শুধু গেইম খেললে একটা কথা ছিল। এখন একধরনের লাইভ গেইম চালু হয়েছে। বাংলাদেশে একজন খেলছে, আমেরিকায় তার প্রতিপক্ষ। বাংলাদেশের ছেলে/মেয়ে খেলছে রাতে, আমেরিকায় যেহেতু তখন দিন, তাই সেখানকার খেলোয়াড় খেলছে দিনে। তার মানে ঘুমের বারোটা বাজছে আমার ছেলেমেয়ের। এ বারোটা শেষ পর্যন্ত তাঁর স্কুল/কলেজের তেরোটা বাজায়। পড়াশুনার চৌদ্দটা বাজায়। বন্ধ দরজার ওপাড়ে গ্যাজেট কিন্তু এ চৌদ্দটাই বাজাচ্ছে।
অতএব, বাচ্চার দরোজায়, নো খিল, নেভার খিল।
৪। আমাদের ছেলেমেয়েদের হাতের তালুতে ইন্টানেটের উপস্থিতির কারণে তাদের সাথে আমাদের মানসিক দুরত্ব কতটুকু হচ্ছে একবার ভাবুন। মনে করুন তো, শেষ কখন সে আপনার সাথে মোবাইলে চোখ রাখা ছাড়া মনোযোগ দিয়ে কথা বলেছে? আপনি বলছেন, সে আপনার দিকে না তাকিয়ে মোবাইল টেপাটেপি করে তা অর্ধেক শুনছে,—তা কি হচ্ছে না?
তার মানে তার চোখের দিকে তাকিয়ে আপনার কথা বলার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে এই সব গ্যাজেট। আপনি তা হতে দেবেন কেন?
৫। আপনি কি খেয়াল করেছেন, অতিরিক্ত ইন্টারনেট আসক্তির জন্য আমাদের বাচ্চার মধ্যে এক ধরণের ‘ডুয়ল’পার্সোনালিটি’ তৈরি হচ্ছে? সে একদিকে বাংলাদেশি আবার অন্যদিকে আমেরিকান কিংবা ব্রিটিশ। তার বাস্তব পারিপার্শ্বিক খাঁটি বাংলাদেশি আর ভার্চুয়াল পারিপার্শ্বিক পশ্চিমা কিংবা বিদেশি।এটা তার মনে তীব্র দ্বন্দ্ব তৈরি করছে। যা তার মনোজগতে তীব্র প্রভাব ফেলছে। দেশের কিছুই তার ভাল লাগছে না। এটা থেকে জন্ম নিচ্ছে হতাশা।
‘আর হতাশা হচ্ছে ভবিষ্যৎনাশিনী।’ কথাটা আমরা সবাই যাতে মনে রাখি।
৬.আমাদের দেশে একটা প্রবাদ আছে, ‘দুধ বেচে মদ কেনা।‘
আমার ক্ষমতা থাকলে আমি আরেকটি প্রবাদ চালু করতাম তাহলো—-

‘রক্ত বেচে গ্যাজেট কেনা’—কারণ গ্যাজেট কেনার টাকা জোগাড় করতে আমাদের রক্তই তো পানি করতে হয়। তাই এটা রক্ত বেচে গ্যাজেট কেনার সমান। আমাদের ভাবতে হবে, রক্ত বেচা টাকায় আমরা বাচ্চাকে ধ্বংস করে দিচ্ছি নাতো?

আরও পড়ুনঃ নারীদেরকে যেভাবে জঙ্গী বানাতেন আলেপ উদ্দিন : আরেকটি ঘটনা

আমার কথা পরিষ্কার, বাবা হিসেবে আমি গণতান্ত্রিক না। আমার অভিজ্ঞতা বলে ‘গণতান্ত্রিক মা-বাবারা’ সফল মা-বাবা হন না।
আমি ‘লী কুয়ান’ টাইপ বাবা হতে চাই। যিনি সিঙ্গাপুরকে ‘ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডে’ নেবার জন্য ভীষন কর্তৃত্ববাদী ছিলেন।আমি আমার সকল বাচ্চাকে ‘সিঙ্গাপুর’ বানাতে চাই। চলমান মনুষ্য সিঙ্গাপুর। তাই আমি তাকে অবাধ স্বাধীনতা দেবো না।
আমি ওল্ড স্কুল বয়। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত আমার বাচ্চাকে ওল্ড স্কুলের নিয়ম মেনে চলতে হবে।
বাচ্চাদের গ্যাজেট ব্যবহার ও ব্যক্তি স্বাধীনতার ব্যাপারে আমাদের কঠিন হতেই হবে। কারণ সন্তান যদি মা-বাবাকে উচ্চতায় ছাড়িয়ে না যায় তবে সে পিতৃ বা মাতৃজীবন বৃথা। আসলেই বৃথা।
(আমার ‘স্বপ্নডানা’ বই থেকে নেওয়া। এটা কয়েক বছর আগে পোস্ট করেছিলাম। বাচ্চাদের মোবাইল আসক্তি তখনকার তুলনায় বেড়েছে।তাই আবার পোস্ট করলাম। লেখাটি শেয়ার করা যাবে। আপনাদের মতামত আশা করছি।)

আমাদের পথ চলায় সঙ্গী হন আপনিও:

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT