
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই নতুন বিতর্কের সূচনা হলো। শহীদ ওসমান বিন হাদি, আবরার ফাহাদ ও ফেলানী খাতুনের নাম সংসদের শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। স্পিকারের কাছে দেওয়া এই দাবিকে ঘিরে সংসদে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ শহীদদের স্মরণ করা সংসদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই শোক প্রস্তাবে শহীদ ওসমান বিন হাদি, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ এবং সীমান্তে নিহত ফেলানী খাতুনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
এদিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের স্মরণ করা জাতীয় সংসদের দায়িত্ব। তিনি দাবি করেন, এসব শহীদের স্মৃতি জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পেলে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস সম্পর্কে আরও সচেতন হবে।
উল্লেখ্য, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ ২০১৯ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। অন্যদিকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের ঘটনাও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে মানবাধিকার ইস্যু হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং সেগুলোর অনুমোদন, সংশোধন বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাহিদ ইসলামের উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের বিষয়টি নিয়ে সংসদে কী সিদ্ধান্ত আসে, তা এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।