
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক ঝড় উঠেছে ইউরোপে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার বিরোধিতা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই স্পেন ইসরায়েল থেকে তার রাষ্ট্রদূত স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করেছে। এতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তলানিতে পৌঁছেছে।
স্পেন সরকার মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে, ইসরায়েলে নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতের পদ বাতিল করা হয়েছে। ফলে তেল আবিবে স্পেনের দূতাবাস আপাতত একজন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।
মূলত গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ঘিরেই স্পেন-ইসরায়েল সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই স্পেন প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সমালোচনা করে আসছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্পেন একটি কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। তারা তাদের বন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার করে ইসরায়েলের জন্য অস্ত্র বহনকারী জাহাজ ও বিমানের চলাচল নিষিদ্ধ করে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়।
সে সময় ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাইডেন সা’র স্পেনের পদক্ষেপকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দেন।
এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন স্পেন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘোষণার পর প্রতিবাদ হিসেবে ইসরায়েল তাদের রাষ্ট্রদূতকে স্পেন থেকে ফিরিয়ে নেয়।
বর্তমানে স্পেনে ইসরায়েলের দূতাবাসও একজন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক হামলার বিরোধিতা করায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। মার্চের শুরুতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাইডেন সা’র অভিযোগ করেন, যুদ্ধের বিরোধিতা করে স্পেন নাকি “স্বৈরশাসকদের পাশে দাঁড়িয়েছে”।
সব মিলিয়ে স্পেনের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইউরোপীয় রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।