হ্যাঁ/না ভোটে সিদ্ধান্ত: কুবি শিক্ষার্থীদের চোখে গণভোট - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
রাঙ্গামাটি নানিয়ারচর সেনা জোন কর্তৃক শীতবস্ত্র ও নগদ অর্থ প্রদান কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠে জামায়াত আমিরের জনসভা ঘিরে জনসমুদ্র জাতীয় অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে শবে বরাত, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সম্ভাবনা হ্যাঁ/না ভোটে সিদ্ধান্ত: কুবি শিক্ষার্থীদের চোখে গণভোট শেরপুর-৩ আসনে জামায়েতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যু মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অবৈধ জালবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে কুবি কর্মচারীদের অবস্থান ও বিক্ষোভ সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ভুয়া সার্টিফিকেটে সনদ ও চাকরিজীবীর দলিল লেখক নিবন্ধন বাতিলের অভিযোগ কুবিতে ফ্যাক্টচেকিং ও অপতথ্য যাচাই বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে ইবিতে র‌্যালি

হ্যাঁ/না ভোটে সিদ্ধান্ত: কুবি শিক্ষার্থীদের চোখে গণভোট

শারাফাত হোসাইন, কুবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে এবারের নির্বাচন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা, কারণ একই দিনে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘গণভোট’। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’ বা সংস্কার এজেন্ডাগুলোর ওপর জনগণের রায় নিতে এই ‘হ্যাঁ/না’ ভোটের আয়োজন করেছে। এই প্রক্রিয়া নিয়ে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষালয়গুলোর পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং বিপুল প্রত্যাশা।

‎জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ও সচেতন অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ভাবনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে ২০২৬ সালের গণভোটকে তারা দেখছেন কেবল ভোট প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের সরাসরি মতামত জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে। গণভোটের ধারণা, এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং রাষ্ট্রের জন্য ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের সুবিধা অসুবিধার দিকগুলো নিয়ে মতামত দিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষার্থী।

 

‎‎“এটি শুধু একটি ভোট নয়, এটি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি”

‎জুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’:  নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা গড়ার যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর গণভোটে আমরা একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছি। জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলে আমরা নির্ধারণ করবো যে, বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে, পুরনো স্বৈরাচারী কাঠামোর দিকে, নাকি একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের দিকে। আমি দৃঢ়ভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। এটি শুধু একটি ভোট নয়, এটি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি। এটি নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা আঁকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

‎‎জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় , কতটা রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বৈরাচারের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে উঠেছিলাম। কোটা সংস্কারের দাবি থেকে শুরু হয়ে এই আন্দোলন দ্রুতই দুর্নীতি, বেকারত্ব, নির্বাচনী কারচুপি এবং একক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে গণজাগরণে পরিণত হয়। হাজারো তরুণ-তরুণীর প্রাণহানি, আহতদের যন্ত্রণা এবং জনতার অদম্য সাহস আমাদের একটি বার্তা দিয়েছে,আর নয় সেই পুরনো ব্যবস্থা, যেখানে একটি দল বা ব্যক্তি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। জুলাই সনদ এই আন্দোলনের ফসল। এটি ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মাধ্যমে আমাদের সংবিধানকে আরও শক্তিশালী, নিরপেক্ষ এবং জনকেন্দ্রিক করে তুলতে চায়। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে আমরা এই সংস্কারগুলোকে বাস্তবায়িত করার পথ প্রশস্ত করবো, যাতে নতুন সংসদ এগুলোকে অবশ্যই বাস্তবায়ন করে।

‎‎কেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া উচিত?

‎প্রথমত, এই সনদে প্রস্তাবিত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ (নিম্নকক্ষ এবং সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক উচ্চকক্ষ) ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। বর্তমান ব্যবস্থায় একক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সংবিধানকে ইচ্ছেমতো বদলাতে দেয়, কিন্তু উচ্চকক্ষের সম্মতি ছাড়া বড় সংশোধন অসম্ভব হবে। এটি জুলাই আন্দোলনের মূল দাবি,একক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ কে সরাসরি সমর্থন করে।

‎দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা একটি বিপ্লবী পদক্ষেপ। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতা সংহতি দুর্নীতি এবং স্বৈরাচারকে উসকে দেয়, যা আমরা অতীতে দেখেছি। এই সংস্কার নতুন নেতৃত্বের সুযোগ দেবে এবং রাজনীতিকে আরও গতিশীল করবে।

‎তৃতীয়ত, নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষ গঠন নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচন কারচুপিমুক্ত হয়। এছাড়া, অনুচ্ছেদ ৭০ সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটাধিকার দেওয়া, নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা এসব প্রস্তাব আমাদের সমাজকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়ভিত্তিক করে তুলবে। কেউ কেউ বলতে পারেন যে, এত বড় সংস্কারগুলো তাড়াহুড়োয় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জুলাই সনদটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে ২৫টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের আলোচনায় প্রণীত। এটি কোনো একক গোষ্ঠীর ইচ্ছা নয়, বরং জুলাই আন্দোলনের জনগণের দাবির প্রতিফলন। ‘না’ ভোট দিলে আমরা এই সংস্কারগুলোকে অস্বীকার করবো এবং পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি নেবো। কিন্তু ‘হ্যাঁ’ দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পাবো, যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে, না কোনো ব্যক্তি বা দলের।

এই গণভোট আমাদের সকলের জন্য একটি পরীক্ষা। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে, একটি উন্নত, সুষ্ঠু এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। এটি শুধু আমার মতামত নয়, এটি লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের প্রতিধ্বনি। আসুন, এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে অংশ নিই এবং নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করি।

ইয়াছিন ইবনে ফিরোজ

অর্থনীতি বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

“গত দেড় বছরের অপেক্ষার অবসান হবে গণভোটের মাধ্যমে”

‎জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে আমাদের প্রত্যাশা ছিলো ব্যাপক, কিন্তু প্রাপ্তির হিসাবে হতাশাই বেশী। এই সরকার যতো কাজ করেছে তা সংস্কার কমিশনের নোটস অফ ডিসেন্টে আটকে আছে। পুলিশ কমিশন গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশী ছিলো। এটাও রাজনৈতিক দলের বিরোধিতায় আটকে আছে। জুলাই আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ ছিলো চাকরি প্রার্থীদের অংশগ্রহণ। তাদের অন্যতম দাবী ছিলো স্বাধীন পিএসসি গঠনের মধ্য দিয়ে তদবির প্রথা এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে পিএসসিকে মুক্ত করা। কিন্তু এই কাজটায়ও একাধিক দল বাগড়া দিয়েছে। হাসিনার দূর্নীতির স্বর্গরাজ্যের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ বিক্ষুব্ধ ছিলো। অনাগত দিনে কেউ যেনো দূর্নীতি করতে না পারে তারজন্য স্বাধীন দুদক কমিশন পুনর্গঠন করা জরুরি ছিলো। সেটাও একটি দলের বাধার কারনে সম্ভবপর হয়নি। এরকম আরও অসংখ্য মৌলিক  সংস্কার আটকে আছে। যার জন্য গণভোট খুবই প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি গণভোটের মাধ্যমে গত দেড় বছরের অপেক্ষার অবসান হবে এবং অনাগত ভবিষ্যতে স্বৈরাচার তৈরী হওয়ার সকল রাস্তা বন্ধ হবে।

‎‎আরাফ ভূইয়া

‎পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

“‎বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ ও সংবিধান পরিবর্তনের অপসংস্কৃতি রুখতে ‘হ্যাঁ’”

‎‎গণভোটে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ দিব। ‎কারণ গণভোট মূলত বিগত দিনে আমরা যে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা দেখেছি সেটির পুনরাবৃত্তি নির্মুলে অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ। এছাড়া সরকারদলীয় একচেটিয়া ক্ষমতা, ভোটাধিকার হরণ, দেশের ও জনতার ক্রান্তিকালীন সময়ে ইন্টারনেট বন্ধের মতো ভয়াবহ ধরনের মৌলিক অধিকার হরণ, বিচার বিভাগে ক্ষমতাসীনদের হস্তক্ষেপ, নিজেদের প্রয়োজনে যেকোনো মুহূর্তে সংবিধান পরিবর্তন প্রভৃতি অন্যায়-অনিয়মে এ দেশ দিনে দিনে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে নিজের মত প্রকাশের অধিকার নেই বললেই চলে৷ দীর্ঘদিন ধরে দেশে গণতন্ত্র চর্চার কোনো প্রতিফলন নেই, প্রতিটি সেক্টরে এমনকি জাতীয় নির্বাচনে পর্যন্ত একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের চিত্র আমরা দেখেছি। এবারের গণভোট ২০২৬ আমাদের সে সকল হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনা এবং আমাদের বহুল আকাঙ্ক্ষিত জুলাই সনদের বাস্তবায়নের একটি চূড়ান্ত পদক্ষেপ। তাই রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে নিজের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আমি অবশ্যই গনভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিব।

‎‎ফারহা খানম

বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

“২০২৬ সালের গণভোট কেবল একটি ভোট নয়, এটি একটি উন্নত ও সাম্যবাদী বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার”

‎দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার চাবিকাঠি এখন আমাদের হাতে। ২০২৬ সালের এই গণভোট কেবল একটি ভোট নয়, এটি একটি উন্নত ও সাম্যবাদী বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার। আমি “হ্যাঁ” ভোট দিচ্ছি কারণ আমি এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর হবে এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে। সরকার চাইলেই একা সংবিধান বদলাতে পারবে না এবং  বড় সিদ্ধান্তে জনগণের রায় (গণভোট) লাগবে। তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত হবে পাশাপাশি কোনো অবস্থাতেই ইন্টারনেট বন্ধ করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন ও পিএসসি গঠনে সরকারি ও বিরোধী দল মিলে কাজ করবে যার ফলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন হবে।​ বিচারব্যবস্থা চলবে কারো রক্তচক্ষু ছাড়া সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে। বাংলা ভাষার পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি মিলবে। অপরাধী যেই হোক রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমায় পার পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। তাই, আমরা ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিই। আপনার একটি “হ্যাঁ” ভোট বদলে দিতে পারে আগামীর বাংলাদেশ।

‎‎মোহাম্মদ রাজিব

‎ইংরেজি বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

“স্বচ্ছ গণভোটই হতে পারে স্বৈরাচার রুখে দেওয়ার গণতান্ত্রিক ঢাল”

শুধু ভোট দিলেই হবে না, ভোটের আগে প্রতিটি এজেন্ডা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে মুক্ত আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

আমরা এমন একটি ভোট দেখতে চাই, যা হবে শতভাগ স্বচ্ছ। কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা নয়, বরং আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা যেন এই ভোটে প্রতিফলিত হয়।

সংস্কার প্রক্রিয়া যেন অন্তহীন না হয়। গণভোটের মাধ্যমে জনমত নিয়ে দ্রুত একটি টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামোর দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে ছিলাম, আমরা এখনো সজাগ আছি। আমরা চাই না অতীতের মতো কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত। আমরা চাই ‘জনগণের সম্মতিতে জনকল্যাণ’। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি সাহসিকতার সাথে একটি স্বচ্ছ গণভোট আয়োজন করতে পারে, তবে সেটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক। সংবিধান সংশোধন বা গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কেবল সরকারি সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়। গণভোটের মাধ্যমে যখন সাধারণ মানুষ ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার সুযোগ পাবে, তখন সেই সংস্কারগুলো একটি শক্তিশালী নৈতিক ও আইনি ভিত্তি পাবে। এটি ভবিষ্যতে যেকোনো স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত রুখে দেওয়ার ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

সানজিদা আক্তার সাথি

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT