
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে “তৃতীয় শক্তি” হিসেবে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এনসিপির নেতৃত্বে পাঁচটি রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফরম ইতোমধ্যেই একত্র হয়েছে। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই এ জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে জোট ঘোষণা হলেও দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদের বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করেই মূলত এ জোট প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলগুলো জোটবদ্ধভাবে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন জোটে যুক্ত হতে যাচ্ছে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) এবং গণতন্ত্র মঞ্চের একটি দল। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যদিও এখন পর্যন্ত পাঁচটি দল ও প্ল্যাটফরমের সমন্বয়ে জোটটির প্রাথমিক কাঠামো গঠিত হয়েছে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদের বিষয়ে যেসব দল ইতিবাচক—তাদের নিয়েই নতুন রাজনৈতিক বলয় তৈরির আলোচনা চলছে। সফল হলে জোটটি দীর্ঘমেয়াদে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিত করবে।”
এর আগে গত অক্টোবরে জোট গঠনের উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও আপ বাংলাদেশ যৌথভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এ ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের ৫ তারিখ পল্টনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কার্যালয়ে এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, এবি পার্টি ও গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বৈঠকে বসেন। সেখানে জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন—উভয়ই প্রধান আলোচ্য ছিল।
সবশেষ গত রবিবার ফেনীতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন জোট ঘোষণা হবে। তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা সামনে থেকে ভূমিকা রেখেছে, তাদের নিয়েই জোট হবে। শেষ সময়ে আরও কয়েকটি দল যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে—তাই ঘোষণা দিতে কিছুটা সময় লাগছে।”
আসন্ন নির্বাচনে জোটবদ্ধ থাকছে কি না—প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জোটের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী। তবে নির্বাচনেও জোট একতাবদ্ধ থাকবে।”