
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে কসাইটুলীর নয়নের মাংসের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আবদুর রহিম ও তাঁর ষষ্ঠ শ্রেণির ছেলে রিমন। ঠিক সেই সময় কেপিগোজ স্ট্রিটের একটি ভবনের ছাদের রেলিং ভেঙে তাদের ওপর পড়লে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বাবা ও ছেলে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলামও। হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। [ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন]
মর্গের বাইরে দাঁড়িয়ে আহাজারি করছিলেন রহিমের ভাই নাসির। তিনি চোখের অশ্রু পोंছাতে পোঁছাতে বললেন, “আমার ভাই খুব ভালো মানুষ ছিল। দুই বছর আগে হজ করেছেন। আল্লাহ ওদের দুজনকে জান্নাতবাসী করুন।”
রহিমের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে। পুরান ঢাকার গার্ডেন সিটিতে কাপড়ের ব্যবসা করতেন তিনি। স্ত্রী, তিন ছেলে এবং এক মেয়ে নিয়ে ছিল তাঁর সংসার। বড় ছেলে মাত্র এক মাস আগে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দিয়েছে। ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ছুটির দিনের আনন্দ উপভোগ করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু ভাগ্যবশত সেই ছোট্ট হাতই শেষবার বাবার হাত ধরেছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আজ সকালে রান্নার জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল। মাংস কিনে বাড়ি ফেরার পর নাশতার আয়োজন থাকলেও সেই মুহূর্ত আর ঘটলো না—মারাও ফিরে এল নিথর দেহ দুটো।