
অভিযুক্ত সেই শিক্ষার্থীর নাম তাওহিদ হাসান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এছাড়াও র্যাগিং জড়িত থাকার অভিযোগে আরো ১৯ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা হয়েছে। এবং তাদের হল প্রভোস্টের কাছে মুচলেকা দিতে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
মূলত চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ডাইনিংয়ে র্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ ও ট্রেজারার প্রফেসর আবুল বাশার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২ ও ৮৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ডাইনিং রুমে দরজা লক অবস্থায় পান। ঘটনাটির পরপরই তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এছাড়াও চলতি বছরের ২১ এপ্রিল এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদে র্যাগিংয়ের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাংবাদিকরা ক্লাসরুমে উপস্থিত হন। এ ঘটনাকেও ঘিরে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
র্যাগিংয়ের ঘটনা দুইটি ঘটার প্রায় ৬ মাস ও ৪ মাস পর উভয় ঘটনায় তাওহিদ হাসানকে অভিযুক্ত করে অফিস আদেশ জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিমের সই করা এই অফিস আদেশে জানানো হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ২১ মার্চ তারিখ সংঘটিত ৮৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের র্যাগিং এর উভয় ঘটনায় অভিযুক্ত এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের শিক্ষার্থী তাওহিদ হাসান কে শৃঙ্খলা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০০.০০ (দুই হাজার) টাকা নগদ জরিমানা করা হয়েছে। যা পত্র প্রাপ্তির ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কোষাগারে জমা দিতে হবে, অনাদায়ে ১ বছরের শিক্ষা বৃত্তি কর্তন করা অথবা পরবর্তী সেমিস্টার পরীক্ষা থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোন কর্মে লিপ্ত হবে না মর্মে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্টের নিকট মুচলেকা দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।
তাওহীদ হাসান ছাড়াও যেকোন একটি র্যাগিংয়ের ঘটানায় অভিযুক্ত আরোও ১৬ জনকে হল প্রভোস্টের নিকট মুচলেকা জমা দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও ২১ এপ্রিলে এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ঘটে যাওয়া ঘটনাকে অপ্রিতিকর ঘটনা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২ ব্যাচের আরো তিন শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করে অফিস আদেশ জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিন শিক্ষার্থী হলেন এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ফরহাদ জামিল, একি অনুষদের মো: আরিয়ান হক এবং মো: সাকিব আর হাসান।
অফিস আদেশ অনুযায়ী তাদের হল প্রভোস্টের নিকট মুচলেকা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পাশাপাশি শৃঙ্খলা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোন কাজে লিপ্ত হওয়ার প্রমাণ পেলে ছাত্রত্ব বাতিল করা হবে মর্মে সতর্ক করা হয়েছে।