দক্ষিণ কোরিয়ায় টানা চার দিন ধরে ভারী বর্ষণে চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং অন্তত দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় হাজার হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, দ্রুত বাড়তে থাকা বন্যার পানিতে গবাদিপশুরাও আটকা পড়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ।
শনিবার দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানায়, আরও ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে আরও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, সোমবার পর্যন্ত কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি চলবে এবং ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থাকায় জনগণকে চরম সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ৭,০০০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হলেও এখনও প্রায় ২,৮০০ জন ঘরে ফিরতে পারেননি। রাজধানী সিউলের দক্ষিণে অবস্থিত দক্ষিণ চুংচেয়ং প্রদেশের সিওসানে রেকর্ড ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা প্রায় ২০ ইঞ্চির সমান।
মাত্র চার দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় ৪০ শতাংশ হয়ে গেছে। দক্ষিণ চুংচেয়ংয়ের ইয়েসান এলাকায় বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এক বাসিন্দা নিজের বিধ্বস্ত বাড়ি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ওই অঞ্চলেই অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে একজন গাড়িতে পানি ঢুকে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। সিওসানের একটি রাস্তায় গাড়িতে আটকা পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আরেকজন ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ নিজের বাড়ির জলমগ্ন বেজমেন্টে মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। তৃতীয় ব্যক্তি একটি গার্ডওয়াল ধসে পড়ার সময় চলন্ত গাড়িতে ছিলেন, এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। চতুর্থ ব্যক্তিকে একটি স্রোতস্বিনীতে ভেসে পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গওয়াংজু শহরে দুইজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
চুংচেয়ং প্রদেশে গবাদিপশুর খামারগুলোও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক গরু নিজেদের মাথা পানির ওপর রাখার জন্য সংগ্রাম করছে, কারণ তাদের গোয়ালঘর ও আস্তাবল বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৭২৯টি সরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ডুবে যাওয়া সড়ক, নদী সংরক্ষণ স্থাপনার ধস ইত্যাদি। বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতির সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১,০০০টি, যার মধ্যে ৬৪টি ভবন ডুবে গেছে এবং ৫৯টি কৃষিজমি পানির নিচে চলে গেছে।
এদিকে প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়াতেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই মাসেও দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে এমন ভয়াবহ বৃষ্টিপাত হয়েছিল, যাতে অন্তত চারজন মারা গিয়েছিলেন এবং দেশজুড়ে যাতায়াতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল।