
চট্টগ্রাম চ্যাম্পিয়ন, হবিগঞ্জ-সিলেট রানার্স-আপ; কাউন্সিলর, কমিউনিটি লিডার ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায় যুক্তরাজ্যের উত্তর লন্ডনের এনফিল্ডে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে তৃতীয়বারের মতো ব্রিটিশ বাংলাদেশি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ও এনফিল্ড কমিউনিটি ডে ২০২৬। এনফিল্ড স্পোর্টিং কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে ফুটবল প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ছিল পরিবার ও শিশুদের জন্য নানা বিনোদনমূলক আয়োজন।
গত রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত Latymer School Sports Grounds, N9 9TN-এ অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে উত্তর লন্ডনের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক ব্রিটিশ বাংলাদেশি পরিবার, তরুণ-তরুণী, শিশু ও কমিউনিটি সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
আঞ্চলিক ও জেলা-উপজেলা ভিত্তিক এই ফুটবল টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দল অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ শেষে চট্টগ্রাম দল চ্যাম্পিয়ন হয়। হবিগঞ্জ-সিলেট দল রানার্স-আপ হয়। টুর্নামেন্টজুড়ে খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত পারফরম্যান্স ও দর্শকদের উচ্ছ্বাস পুরো মাঠকে উৎসবমুখর করে তোলে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কাউন্সিলর, ক্যাবিনেট মেম্বার, কমিউনিটি লিডারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
ফুটবল টুর্নামেন্টের পাশাপাশি বাউন্সি ক্যাসেল, শিশুদের বিভিন্ন প্লে অ্যাক্টিভিটি, ফুড স্টল, আইসক্রিম ও ট্রিটস, পিকনিক ও বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকায় পুরো দিনটি একটি প্রাণবন্ত পারিবারিক উৎসবে পরিণত হয়। বিশাল খোলা মাঠে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকে পিকনিক করেন এবং বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরিবারবান্ধব ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্কিং, খাবার ও বিনোদনের নানা সুবিধা রাখা হয়েছিল। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি উত্তর লন্ডনের একটি আনন্দময় ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি আয়োজনে পরিণত হয়।
অংশগ্রহণকারী পরিবার ও দর্শনার্থীরা বলেন, শুধু ফুটবল নয়, পুরো আয়োজনটি ছিল কমিউনিটির মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার একটি প্ল্যাটফর্ম। তাঁরা আয়োজনের জন্য এনফিল্ড স্পোর্টিং কমিউনিটির উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানান।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এই আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে এবং ব্রিটিশ বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কমিউনিটির প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে।