বর্ষা এলেই বেড়ে যায় সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা আর জ্বরের প্রকোপ। বিশেষ করে বৃষ্টিতে ভিজলেই এসব অসুখ যেন আরও বেশি ঘনঘন দেখা দেয়। প্রশ্ন হলো, কেন এমনটা হয়? শুধুই কি ঠান্ডা পানি, নাকি এর পেছনে আছে আরও জটিল শারীরিক কারণ?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা বলছে, বৃষ্টিতে ভিজলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়। এতে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা (ইমিউন সিস্টেম) সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে বাতাসে থাকা ভাইরাস যেমন রাইনোভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ও করোনাভাইরাস সহজেই শরীরে সংক্রমণ ঘটায়।
এছাড়া বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় শ্বাসনালীর প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, অর্থাৎ মিউকোসিলিয়ারি ক্লিয়ারেন্স বাধাগ্রস্ত হয়। সাধারণত এই ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে নাক, গলা, ফুসফুসের ভেতর জমে থাকা শ্লেষ্মা ও জীবাণু পরিষ্কার হয়। কিন্তু ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে এই প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, ফলে ভাইরাস সহজে শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন:
বৃষ্টির নোংরা পানি ও কাদায় নানা ধরনের জীবাণু থাকে, যা নাক-মুখ দিয়ে প্রবেশ করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। ঠান্ডায় শরীরের ব্লাড ভেসেল বা রক্ত নালি সংকুচিত হওয়ায় শ্বাসনালীর প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়। যাদের আগে থেকেই সাইনুসাইটিস, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, হাঁপানি আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ:
✅ বৃষ্টিতে ভিজলে দ্রুত শুকনো কাপড় পরে নিন।
✅ কুসুম গরম পানিতে গোসল করে শরীর গরম রাখুন।
✅ গলায় লবণপানি দিয়ে গার্গল করুন।
✅ আদা, লেবু, মধু ও গরম চা পান করুন।
✅ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল খান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
✅ জ্বর, সর্দি-কাশি বেশি দিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বর্ষা উপভোগে কোনো বাধা নেই। তবে সতর্কতা ও সচেতনতা না থাকলে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে জটিল শ্বাসনালীর রোগ দেখা দিতে পারে। তাই, আমাদের আনন্দের পাশাপাশি প্রয়োজন বাড়তি সাবধানতা।