ফিলিস্তিনের গাজায় আটক জিম্মিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে শেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে ‘নরকের পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প বলেন, জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে এবং নিহতদের মরদেহ ফেরত দিতে হবে। অন্যথায় এর কঠিন মূল্য দিতে হবে হামাসকে। তিনি আরও জানান, ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা তিনি পাঠিয়েছেন। তবে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
হোয়াইট হাউসের এক ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ওই ঘোষণায় বলা হয়েছিল, জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র হামাসের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছে।
ট্রাম্পের পোস্টে গাজার সাধারণ মানুষের উদ্দেশেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যদি জিম্মিদের আটকে রাখা হয়, তাহলে এর পরিণতি মারাত্মক হবে। তবে জিম্মিদের মুক্তি দিলে সুন্দর ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।
এদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট নিশ্চিত করেছেন যে, হামাসের সঙ্গে আলোচনার আগে ইসরায়েলের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে। জিম্মিদের মুক্তির লক্ষ্যে বিশেষ দূত অ্যাডাম বোয়েলার কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখনো ৫৯ জন জিম্মি রয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ২৪ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। জিম্মিদের মধ্যে মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন।
এছাড়া, ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, হামাসকে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যদি হামাস তাদের শর্ত না মানে, তবে পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার হামাসের বিরুদ্ধে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে, যাতে ওই গ্যাংটি তাদের কাজে বাধ্য হয়। তিনি গাজার সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা হামাসের ষড়যন্ত্র থেকে সরে এসে শান্তির পথে চলে আসে। এদিকে, ইসরায়েল জিম্মিদের নিরাপত্তা ও মুক্তির জন্য তার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।