
ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে গফরগাঁও উপজেলার রৌহা ও কালীর বাজারের মধ্যবর্তী এলাকায় ভুয়াপুর থেকে ঢাকাগামী জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি চলন্ত অবস্থায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং প্রায় আধা ঘণ্টা বন্ধ থাকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ট্রেনটি রৌহা ও কালীর বাজারের মাঝামাঝি পৌঁছালে বগির সংযোগ হুক ভেঙে যায়। এতে পেছনের ‘ক’ নম্বর কোচটি মূল ট্রেন থেকে আলাদা হয়ে পড়ে। ট্রেনের ইঞ্জিন ও বাকি বগিগুলো প্রায় দুই কিলোমিটার সামনে এগিয়ে যায়। চালক বিষয়টি টের পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থামিয়ে পুশব্যাগ করে বিচ্ছিন্ন বগির কাছে ফিরে আসেন। পরে রেলকর্মীরা সংযোগ ঠিক করে ট্রেনটি পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
গফরগাঁও রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম কিবরিয়া বলেন, “ভুয়াপুর থেকে ঢাকাগামী জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি রৌহা ও কালীর বাজারের মাঝপথে পৌঁছালে বগির সংযোগ হুক ভেঙে যায়। এতে একটি কোচ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সংযোগ ঠিক করে দিই।”
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য বন্ধ ছিল। পরে রাত ১০টার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সব ট্রেন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলাচল করছে। এক যাত্রী বলেন, “আমিসহ অনেকে এই পথে ঢাকা যাচ্ছিলাম। কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি, তবে মুহূর্তে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”
রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বগির সংযোগ হুকের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে বিস্তারিত জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলন্ত ট্রেনের বগি বিচ্ছিন্ন হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।