
১৪ আগষ্ট ২০২৫
সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় পাথর লুটপাট বন্ধ ও চুরি হওয়া পাথর পুনঃস্থাপনের জন্য পাঁচ দফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিলেট জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই পাঁচ দফার মধ্যে রয়েছে—জাফলং ইসিএ এলাকা ও সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথ বাহিনী দায়িত্ব পালন, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে সার্বক্ষণিক চেকপোস্ট স্থাপন, অবৈধ ক্রাশিং মেশিন বন্ধ রাখা, পাথর চুরির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা, এবং চুরি হওয়া পাথর পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের অক্রিয়তা ও প্রভাবশালীদের সহায়তায় সাদাপাথর ও সিলেটের অন্যান্য পাথর কোয়ারিতে ব্যাপক লুটপাট হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলি পাথর উত্তোলনের বৈধ প্রক্রিয়ার দাবিতে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।
পাথর লুটের ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর দুদক সিলেট কার্যালয় ৯ সদস্যের তদন্তদল গঠন করে। তদন্তে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা পাওয়া যায়। দুদক জানায়, যেসব ব্যক্তির সহযোগিতায় পাথর লুট হয়েছে, তাদের শনাক্ত করে রিপোর্ট কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হবে। পাশাপাশি, পর্যটন খাতের ক্ষতির সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের অংশীদারিত্বও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে পাথর লুটপাট অব্যাহত রয়েছে, যা শুধু প্রাকৃতিক সম্পদই নয়, পর্যটন শিল্পকেও হুমকির মুখে ফেলছে। প্রশাসন ও যৌথ বাহিনী এবার এই লুটপাট বন্ধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।