বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্তদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়িসহ বর্তমানে শেকৃবির মোট সচল গাড়ির সংখ্যা ২২টি। এর মধ্যে ২টি বাস, ১টি কোস্টার মিনিবাস ও ২টি মাইক্রোবাসসহ মাত্র ৫টি যানবাহন শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। এসব গাড়ির জন্য চালক রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। ফলে প্রতিদিন সকাল-বিকাল নিয়মিত বাস চলাচল সম্ভব হচ্ছে না।
অতীতে ক্যাম্পাস-আব্দুল্লাহপুর ও ক্যাম্পাস-যাত্রাবাড়ী রুটে বাস চালু থাকলেও যাত্রীসংখ্যা কম (সর্বোচ্চ ১৫ জন) হওয়ায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট রুটেই নিয়মিত বাস চলাচল করছে না।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আসফা ফেরদৌস মুগ্ধ বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী দূর থেকে আসে, বিশেষ করে সাভার, যাত্রাবাড়ী ও আব্দুল্লাহপুর থেকে। যানজটের কারণে সকাল ৯টার ক্লাস ধরতে হলে দুই ঘণ্টা আগে রওনা হতে হয়। নারী শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে যাতায়াত ও হয়রানির শিকার হন। বিকালে ফেরার সময় যানজটে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগে, যা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি করে।”
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফারিয়া আমিন নিশুতি বলেন, “বাসের সংকট আছে, যা আছে সেটাও ঠিকমতো ব্যবহার হয় না। সকালে সবার ক্লাস একসাথে হয় না, কিন্তু বিকালে প্রায় সবাই একসাথে ছুটি পায়। তখন বিভিন্ন রুটে বাস চালু করলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।”
অন্য এক শিক্ষার্থী শিহাব আহমেদ বলেন, “ঢাকার মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শেকৃবিতেই বাস সংকট সবচেয়ে বেশি। আমি যাত্রাবাড়ী থেকে আসি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দেখেছি মাত্র একবার। বিকালে তো কোনো বাসই চলে না। এতে ভোগান্তি ও সময় অপচয় বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের ভোগান্তি বিবেচনায় বিকালে বিভিন্ন রুটে বাস চালু করা জরুরি। ঢাকার যানজট ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসনের উচিত সকাল ও বিকালে বিভিন্ন রুটে নিয়মিত বাস চলাচলের ব্যবস্থা করা।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শেকৃবিতে পরিবহন ও চালক উভয়ের সংকট রয়েছে। বর্তমানে বড় বাস মাত্র দুইটি, যা বৃদ্ধির প্রয়োজন। সর্বশেষ নতুন গাড়ি কেনা হয়েছে ২০১৭ সালে। বাজেট না থাকায় এরপরে নতুন গাড়ি আসেনি। শিক্ষার্থীরা আবেদন করলে আবার বন্ধ হওয়া রুটগুলো চালুর ব্যবস্থা করা হবে। বিকালে বাস চালুর ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত আবেদন এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে এখনো কোনো আবেদন আসেনি।”