নোটিশ:
শিরোনামঃ
লন্ডনে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’: প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক মিলনমেলা প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি: পরিবারগুলোর প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য কাতারের উত্তরে ট্যাংকারে দুটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত: ইউকেএমটিও আশুলিয়ায় বেতন আন্দোলনে শতাধিক পোশাক কারখানার কার্যক্রম স্থগিত প্রবাসী আয় ১৪.২ শতাংশ বেড়ে ১২.১১ বিলিয়ন ডলার: বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, বৈশ্বিক বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের চাহিদা বছরে ৩০৫ বিলিয়ন ডলার: জাতিসংঘ জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের বিশাল ঘাটতি: প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ডিসেম্বর থেকে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরিকাঠামো, বৃদ্ধির অঙ্ক এখনো নির্ধারিত নয়

জুলাই গণঅভ্যুত্থয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ: শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড, কামালকে একই রায়; মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

সাবাস বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৭০ বার দেখা হয়েছে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

বাংলাদেশে গত বছরের জুলাই–অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হওয়ায় পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত টানা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের সারসংক্ষেপ পাঠ করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রায়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুইটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে প্রথম দফায় আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া অভিযোগের পাশাপাশি দ্বিতীয় অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পান কামাল। মামলায় গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন, যিনি অ্যাপ্রুভার হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ায় হ্রাসকৃত দণ্ড পেয়েছেন।

এ মামলার রায় বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের নজির সৃষ্টি করল। রায়টি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার হয় এবং রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক মোড়ে জনসমাগমে বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হয়।

রায়ে বলা হয়, অভিযুক্ত শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের সময় হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে গণহত্যা, নির্যাতন, গুম ও হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। মামলার তদন্ত ও প্রদর্শিত ভিডিও–অডিও প্রমাণে ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া, রংপুর, বাড্ডা, রামপুরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় প্রাণঘাতী অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত হয়।

মামলায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট, উদ্ধারকৃত কল রেকর্ড, স্যাটেলাইট ফুটেজ, ফরেনসিক বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও তদন্ত নথি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়। মোট ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। ৬ ভাগে বিভক্ত ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ জনসম্মুখে পাঠ করা হয়।

আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও কামাল বর্তমানে ভারতে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়। মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় পরবর্তীতে প্রকাশিত হবে।

২০২৪ সালের জুলাই–অগাস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানকালে দেশজুড়ে ব্যাপক দমন–পীড়ন, নির্বিচারে গুলি, নিখোঁজ, নির্যাতন, লাশ পোড়ানো, ড্রোন–হামলা ও হেলিকপ্টার হামলার অভিযোগ এনে রাষ্ট্রপক্ষ পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উত্থাপন করে। তদন্ত প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮,৭৪৭; যেখানে দালিলিক প্রমাণ ৪,৫০০+, তথ্যসূত্র ২,০১৮+ ও শহীদদের নামের তালিকা ২,৭২৪ পৃষ্ঠা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT