
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৫৪০তম সিন্ডিকেট সভা সোমবার (১১ আগস্ট) রাতে উপাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। তবে সভা শুরুর আগে নিয়োগ প্রত্যাশী ছাত্রদলের সাবেক নেতা বুলবুল রহমান উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে সভায় অংশগ্রহণকারী সিন্ডিকেট সদস্যদের প্রবেশ বাধা দেন। তার এই কার্যকলাপে সিন্ডিকেট সভা কিছু সময় বিলম্বিত হয়।
বুলবুল রহমান অভিযোগ করেন, কলা অনুষদের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ অমান্য করে নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অবিচারের প্রতীক। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি বাসভবনের গেটে তালা দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান ও নিরাপত্তা প্রহরীদের সহায়তায় ফটকের তালা খুলে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বুলবুল রহমান রাবি শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি ২০২৩ সালের শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করেন। ওই বিজ্ঞপ্তিতে অনার্স ও মাস্টার্সে পরীক্ষায় ন্যূনতম ৩.৫০ সিজিপিএ থাকা আবশ্যক ছিল। বুলবুল রহমানের মাস্টার্সের সিজিপিএ ৩.৫০ এর উপরে থাকলেও অনার্সে তার সিজিপিএ ছিল ৩.৩৫, যা যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করে না। তাই তাকে নিয়োগে অযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয়।
এরপর ২০২৫ সালে উর্দু বিভাগে তিনজন শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। বুলবুল রহমান এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও প্রক্রিয়াকে মানবাধিকার লঙ্ঘন উল্লেখ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিট পিটিশন নং-৮৮৩৭ এ হাইকোর্ট ১৩ জুলাই থেকে চার মাসের মধ্যে মামলার পূর্ণ শুনানি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই আদেশ অমান্য করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
বুলবুল রহমান দাবি করেন, কলা অনুষদের শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতার মান ৩.৫০ সিজিপিএ হলেও বানিজ্য অনুষদে তা ৩.৭৫ থেকে ৩.৮০ সিজিপিএ রাখা হয়। তার মতে, বানিজ্য অনুষদে ফল ভালো করা তুলনামূলক সহজ, তাই কলা অনুষদে কম যোগ্যতার মান নির্ধারণ করা হচ্ছে যা মানবাধিকার লঙ্ঘন। তিনি বলেন, “আমি শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত রিট করেছি এবং ছয় মাসের জন্য নিয়োগ স্থগিতের আদেশ পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপিল করলেও শুনানি সম্পন্ন হয়নি। তাই নিয়োগ স্থগিত থাকা উচিত।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত ভাইভাতে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তিনজনের বদলে ১৮ জনকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করা হয়েছে এবং ছয়জনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পরিসরের বহির্ভূত। এ বিষয়ে তিনি উপউপাচার্য ফরিদ উদ্দিন খানের সঙ্গে কথা বলেন, যিনি জানান ২০২৩ ও ২০২৫ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে তিনজন নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। এই অনিয়ম ও অবিচারের প্রতিবাদে তিনি উপাচার্যের বাসভবনে তালা দিয়েছিলেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলের প্রশাসক অধ্যাপক আব্দুর রহিম মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।
রাবি প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “একজন শিক্ষার্থী নিজেকে ভুক্তভোগী মনে করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। তার যোগ্যতার অভাবে আবেদন গ্রহণ হয়নি। মামলার শুনানি হয়েছে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সে চাইলে আবারও আপিল করতে পারে। উপাচার্যের বাসভবনে তালা দেওয়াটা আমাদের কাছে অনুচিত ও দুঃখজনক।”
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নিয়োগ প্রত্যাশী ছাত্রদলের নেতার মধ্যে মতবিরোধ গভীরতর হচ্ছে। এতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সিন্ডিকেট সভার কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া ও হাইকোর্টের আদেশের প্রভাব আগামী দিনে নজরদারির মুখে থাকবে।