নোটিশ:
শিরোনামঃ
নগরের নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা জনস্বাস্থ্যনীতিরও অংশ ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ধোঁয়াশা, সাত প্রদেশে শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত তিন লাখের বেশি নেপালের বন্যা পুনর্গঠনে জাতিসংঘ তহবিলের ২ কোটি ডলারের প্রাথমিক বরাদ্দ হরমুজ প্রণালিতে অক্টোবরে জাহাজে হামলার রেকর্ড, বাড়ছে নৌবাণিজ্যের ঝুঁকি ইউরোপের গ্রীষ্মের তাপে ৫০ হাজারের বেশি মৃত্যুর হিসাব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাডমিন্টন উন্নয়নে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা, দেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের লক্ষ্য সুন্দরবনের প্রতিবেশে শিল্পকারখানার বায়ুদূষণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার খবর ডেঙ্গু প্রতিরোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ ডেঙ্গুতে আরও তিন মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ১২৯৯ রোগী

প্রকৌশল খাতে বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে রাজশাহীতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের অবস্থান

রাবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৪২ বার দেখা হয়েছে
1000094877

বাংলাদেশের প্রকৌশল খাতকে বৈষম্যমূলক ও সংকটাপন্ন আখ্যা দিয়ে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রাবি-রুয়েট-পাবিপ্রবি’র প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, ডিপ্লোমাধারী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সহিংস আন্দোলন ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে পুরো খাতকে জিম্মি করে রেখেছে, যার ফলে বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীরা নিয়মিতভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড থেকে বিক্ষোভ শুরু করে জোহা চত্বর হয়ে মেইন গেইটে এসে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমানে ১০ম গ্রেড উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীরা আবেদন করার সুযোগ পান না, এটি শতভাগ কোটায় সংরক্ষিত ডিপ্লোমাধারীদের জন্য। অথচ অন্য যেকোনো খাতে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা এ ধরনের পদে আবেদন করতে পারেন। তাঁরা বলেন, এর ফলে দেশের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্ষেত্রেই সুযোগ হারিয়ে অন্য সেক্টর বা বিদেশমুখী হচ্ছেন।

তারা আরো বলেন, ডিপ্লোমাধারীরা চলতি দায়িত্বে পদোন্নতির মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী (৯ম গ্রেড) থেকে শুরু করে বিসিএস ক্যাডার পদেও প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন। এমনকি একই বছরে বিএসসি প্রকৌশলী আগে নিয়োগ পেলেও, পরবর্তীতে পদোন্নতি পাওয়া ডিপ্লোমাধারীদের সিনিয়রিটি দেওয়া হয়। এসব অনিয়মকে তাঁরা বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেছেন।

এসময় আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন-

১. সহকারী প্রকৌশলী (৯ম গ্রেড) পদে প্রবেশের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি ডিগ্রি নির্ধারণ এবং সবার জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করা।

২. উপ-সহকারী প্রকৌশলী (১০ম গ্রেড) পদে শতভাগ কোটা বাতিল করে বিএসসি ও এমএসসি প্রকৌশলীদের আবেদন করার সুযোগ।

৩. বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছাড়া কেউ যেন নামের আগে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

প্রকৌশলীরা আরো অভিযোগ করেন, ডিপ্লোমাধারী সিন্ডিকেট গত কয়েক দশক ধরে সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা আদায় করেছে। ১৯৭৮, ১৯৯৪, ২০১৩ সালে তাদের আন্দোলনে সরকারকে নতি স্বীকার করতে হয়েছিল। ২০২৫ সালেও তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকৌশলীদের হুমকি ও অপমান করছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

ন্যায্য অধিকারের সাথে একাত্ব পোষন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, রাবির মেইন গেইট সবসময়ই ন্যায্য অধিকার আদায় ও আন্দোলনের প্রতীকী জায়গা। আমরা দেখেছি, জুলাই বিপ্লবের সময় শিক্ষার্থীরা এই মেইন গেইটের সামনেই আন্দোলনের দুর্গ গড়ে তুলেছিল। আজও রাবির শিক্ষার্থীরা ন্যায্য অধিকারের দাবিতে রুয়েট ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে।

তিনি আরো বলেন, সব ধরনের বৈষম্য ও অযৌক্তিক কোটা বিলোপ হোক। বিশেষ করে নবম ও দশম গ্রেডকে কেন্দ্র করে যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন দ্রুত সমাধান করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকার এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলেই আমরা প্রত্যাশা করি।

শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে তাদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যাতে বৈষম্যের অবসান ঘটাতে শিক্ষার্থীদের আর রাজপথে নামতে না হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT