জাতিসংঘের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য: হাসিনার পালানোর দিনও মানুষ....
নোটিশ:
শিরোনামঃ
তারেক রহমান: জুলাই গণ অভ্যুত্থানের শহীদ-আহতদের জন্য নতুন বিভাগ হবে ২০২৬ হজের জন্য হজযাত্রীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু আলিফ হত্যা মামলা- চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন, বিচার শুরু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল: উচ্চপর্যায় বৈঠকে অগ্রগতি ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার ২১ জানুয়ারির মধ্যে সিদ্ধান্ত চাইছে আইসিসি, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য অনিশ্চিত মাগুরার চিত্রা নদী থেকে উদ্ধার মুঘল আমলের তরবারি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দক্ষিণ স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: লাইনচ্যুতি ও সংঘর্ষে নিহত ২১, আহত শতাধিক দীর্ঘ ২৬ বছর পর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ রিপোর্টার্স ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা জম্মু-কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে সাত ভারতীয় সেনা আহত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের প্রার্থী রুমিন ফারহানাকে তলব

জাতিসংঘের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য: হাসিনার পালানোর দিনও মানুষ মেরেছে সেনাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ১৭৪ বার দেখা হয়েছে
জাতিসংঘের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে । হাসিনার পালানোর দিনও মানুষ মেরেছে সেনাবাহিনী! জুলাই গণহত্যায় র‍্যাব-পুলিশ এর অংশগ্রহণের বিষয়টি এতদিন সুবিদিত থাকলেও সেনাবাহিনীর বিষয়টি ডকুমেন্টেড ছিল না,OHCHR-report
ওএইচসিএইচআর এর প্রতিবেদনের ৩৭ পৃষ্ঠায় সেনাবাহিনীর গুলি করার ছবি

জাতিসংঘের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে । হাসিনার পালানোর দিনও মানুষ মেরেছে সেনাবাহিনী! জুলাই গণহত্যায় র‍্যাব-পুলিশ এর অংশগ্রহণের বিষয়টি এতদিন সুবিদিত থাকলেও সেনাবাহিনীর বিষয়টি ডকুমেন্টেড ছিল না। যদিও ইউটিউবার ও অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য তার একটি ভিডিওতে এই দাবি করেছিলেন যে সেনাবাহিনীকে নিরস্ত্র জনতার উপর গুলি চালাতে দেখা গেছে, কিন্তু এতে যে মানুষ মারা গেছে এই বিষয়টি কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে উঠে আসেনি। তবে সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন (OHCHR) ১১৪ পৃষ্ঠার যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তাতে সেনাবাহিনীর গুলি করে সাধারণ মানুষ হত্যা করার বেশ কয়েকটি ঘটনা উঠে এসেছে। তারমধ্যে একটি ঘটনা ৫ আগস্টের, যেদিন ফ্যাসিস্ট হাসিনা হেলিকপ্টারযোগে ভারতে পালিয়ে গেছেন, সেদিনও যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে আন্দোলনরত মানুষের উপর গুলি চালিয়েছিল সেনাবাহিনী যাতে একজনের মৃত্যু হয় (রিপোর্টের পৃষ্ঠা: ৩৭)। এই রিপোর্টে সেনাবাহিনীর গুলি চালানোর উপর একটি বিশেষ অনুচ্ছেদের অবতারণা করা হয়েছে, ” Involvement of the Army in use of force violations” নামে। এখানে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা ইংরেজিতে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে, যা সাবাস বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য অনুবাদ করে নিচে তুলে ধরা হলো:

Read More: বাগেরহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ক্বোরআন হাফেজ তাকরিম এর মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

কেস ৭: যমুনা ফিউচার পার্কে (৫ আগস্ট) সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণ ও প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা

৫ আগস্ট সকালে, প্রায় ১০টা নাগাদ, শত শত প্রতিবাদকারী যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে, প্রগতি সরণি সড়কে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রধান ফটকের কাছে জমায়েত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো আগেই সেখানে অবস্থান নিয়েছিল। আনুমানিক বিশজন সেনাসদস্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল, প্রতিবাদকারীদের থেকে প্রায় ৩০-৪০ মিটার দূরে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, প্রতিবাদ ছিল শান্তিপূর্ণ। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি আশ্বস্ত বোধ করছিলেন কারণ সেনাবাহিনী পূর্বে আশ্বাস দিয়েছিল যে তারা প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেবে না। আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, প্রতিবাদকারীরা “উচ্ছ্বসিত” ছিল, তারা মনে করেছিল যে সেনাবাহিনী তাদের সুরক্ষা দিতে এসেছে। প্রতিবাদকারীরা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এবং সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিল।

প্রায় ১১:৩০ নাগাদ, প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখেন যে সেনা সদস্যরা প্রতিবাদকারীদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, প্রথমে সেনারা তাদের অস্ত্র উঁচু করে ধরে রেখেছিল। কিন্তু হঠাৎ, এক সেনাসদস্য তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং একজন লোককে মাথায় গুলি করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর সেনারা প্রতিবাদকারীদের দিকে গুলি চালাতে থাকে, সামনে এগিয়ে যেতে যেতে তারা প্রায় ২০-২৫ রাউন্ড গুলি করে।  জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার (OHCHR) এই ঘটনার একাধিক ভিডিও সংগ্রহ ও যাচাই করেছে। ভিডিওগুলোর মেটাডাটা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণিত সময়, স্থান ও পরিস্থিতির সাথে মিল পাওয়া গেছে। OHCHR ভিডিওগুলোর ভৌগলিক অবস্থানও নির্ধারণ করেছে। কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য কিংবা ভিডিওতে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে প্রতিবাদকারীরা সেনাসদস্যদের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করছিল।

গুলির পর, ভিডিও প্রমাণে দেখা গেছে যে সেনারা প্রতিবাদকারীদের দিকে অগ্রসর হয়ে তাদের লাঠি দিয়ে মারতে থাকে, যার ফলে প্রতিবাদকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এসময়, মাথায় গুলি খাওয়া ব্যক্তিটি মাটিতে নিথর পড়ে ছিল, যেখানে তিনি প্রথমে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তার মাথার চারপাশে বড় করে রক্তের দলা জমে গিয়েছিল।  দুই ব্যক্তি তাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সেনারা তাদেরও মারধর করে। এছাড়াও, সেনারা প্রতিবাদকারীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা ব্যক্তিদের দিকে হুমকিসূচক অঙ্গভঙ্গি করছিল।

ভিডিও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার (OHCHR) অনুমান করছে যে সেনাসদস্যটি ৫০ মিটারেরও কম দূরত্ব থেকে গুলি চালায়, যেখানে পরে ব্যক্তিটিকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সৈন্যরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্ট্যান্ডার্ড সার্ভিস রাইফেল, BD-08 ব্যবহার করতে দেখা গেছে, যা চীনের টাইপ ৮১ অ্যাসল্ট রাইফেলের ৭.৬২×৩৯ মিমি গোলাবারুদের একটি বাংলাদেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্করণ। এই গুলি এত শক্তিশালী যে এটি ৬০০ মিটারেরও বেশি দূরত্বে কাউকে হত্যা বা গুরুতরভাবে আহত করতে সক্ষম। ফলে, OHCHR-এর মতে, এই ঘটনাটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল হওয়ার যৌক্তিক প্রমাণ রয়েছে।”

যেহেতু জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার (OHCHR) এর প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর এই অপকর্ম ডকুমেন্টেড হয়ে গেল, কাজেই এটি ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর বৈদেশিক শান্তিরক্ষা মিশনে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা তা-ই এখন দেখার বিষয়।

Follow Us On Facebook.com

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT