
নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণ দেখিয়ে জনপ্রিয় ও আলোচিত আলেম মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফীকে ঢাকা সাইন্সল্যাব কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ-এর খতীবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় যুক্ত হয়েছেন—যা মসজিদ পরিচালনা নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচিত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে কমিটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাকে খতীব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তটি চলতি মাসেই কার্যকর করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মসজিদের ধর্মীয় পরিবেশ ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে ধর্মীয় অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ জনপ্রিয় এক আলেমকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ঢাকা সাইন্সল্যাব কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ-এর খতীব পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জনপ্রিয় আলেম মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফী। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়াকেই ‘অপরাধ’ হিসেবে দেখিয়ে তাকে সরানো হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, হাতপাখার হয়ে কুমিল্লা-১০ আসনে নির্বাচন করার কারণে তাকে মসজিদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং “প্রতিহিংসা শুরু হয়ে গেছে।” তার ভাষ্য, “জাতীয় রাজনীতিতে আলেমসমাজ কেন ভূমিকা রাখতে পারেন না—এর একটা নমুনা এটি।”
তিনি জানান, দীর্ঘ এক যুগ ধরে সাইন্সল্যাবরেটরি কেন্দ্রীয় মসজিদে জুমার খুতবা দিয়ে আসছেন। অতীতে জুলাই আন্দোলনের সময় ভূমিকা রাখার অভিযোগে তাকেসহ আরেক আলেমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে তিনি ব্যক্তিগত, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অধিকার হিসেবে বর্ণনা করেন এবং নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে ছুটি নিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন।
অব্যাহতি পত্রে নির্বাচন অংশগ্রহণকে কারণ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নিজেদের বানানো কথিত নিয়মনীতি।” এক বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক ব্যক্তির ভূমিকার অভিযোগও তোলেন তিনি। সমঝোতার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ‘চক্রান্ত’ শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমি নিজের চাকরির জন্য পেরেশান নই; পেরেশান হই এটা ভেবে যে আমার মতো মানুষের সঙ্গে যদি এমন আচরণ করা হয়, তাহলে বাকিদের কী অবস্থা।” কথিত বানোয়াট নীতিমালার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি এবং জুমায় যাওয়ার কথাও জানান।
এ বিষয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।