মিঠুনের পা ছোঁয়া, মোদির জড়ানো—দুর্গাপুরে এক অভিনব নাট্যচিত্র - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
সড়ক সংস্কারের দাবিতে ইবি শিক্ষার্থীদের কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ ভোলা বরিশাল সেতুর দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা আদর্শিক নেতৃত্বই জাতিকে এগিয়ে নেয়—আফগানিস্তানের উন্নয়ন তার প্রমাণ: মামুনুল হক নোয়াখালীতে তাহাজ্জুদের সময় ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু শেষ হলো কুবির পঞ্চম ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন ভারত অনুমতি না দেওয়ায় বুড়িমারীতে ভুটানের ট্রানজিট পণ্য আটকে অরুণাচলে মসজিদে ঢুকে ইমামকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলাতে চাপ গেজেট বঞ্চনার প্রতিবাদে ইবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘The Voice of JKKNIU’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত

মিঠুনের পা ছোঁয়া, মোদির জড়ানো—দুর্গাপুরে এক অভিনব নাট্যচিত্র

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫
  • ১০৮ বার দেখা হয়েছে
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অভিনেতা-নেতা মিঠুন চক্রবর্তী

রাজনীতি মানেই এখন নাটক। আর এই নাটকে নতুন সংযোজন—পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে মঞ্চস্থ এক “মন ছুঁয়ে যাওয়া” দৃশ্য। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন, বলিউডের ডিস্কো কিং, ‘গ্র্যান্ডমাস্টার’ মিঠুন চক্রবর্তী এবার সরাসরি মোদিজিকে পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে গেলেন। হঠাৎ করেই যেন সিনেমার দৃশ্য। তবে চিত্রনাট্য মোদির হাতে—তিনি সঙ্গে সঙ্গে থামিয়ে দিলেন, বরং কাঁধে হাত রেখে মিঠুনকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরলেন। চারপাশে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, আবেগময় সাউন্ডট্র্যাক ছাড়া যেন কিছুই বাদ ছিল না।

এই “হৃদয়স্পর্শী” মুহূর্ত দেখে অনেকে বলছেন—”রাজনীতি নয়, এ তো ভদ্রতার নতুন যুগ!” আবার কেউ খ্যাঁটাভাবে বলছেন, “বয়সে বড় হয়ে পা ছুঁতে যাওয়াটা কি শ্রদ্ধা, না রোল প্লে? নেতার পা ছুঁয়ে চাকরি পাকা করার অভিনয় কি চলেই আসছে এদেশে?”
সেই মুহুর্তটি দেখতে ভিজিট করুক সাবাস বাংলাদেশ এর ফেসবুক পেইজ।

জানা গেছে, দু’জনেরই জন্ম ১৯৫০ সালে—মিঠুন জুনে, মোদি সেপ্টেম্বরে। তবে বয়সে বড় হওয়ার পরেও পা ছোঁয়ার পেছনে কী ছিল? সত্যিকারের ভক্তি, না ফিল্মি ডায়লগের প্রস্তুতি? নাকি এটা “শেষ লড়াই” ঘোষণার অংশ হিসেবে বিজেপির মন জয় করার নতুন কৌশল?

তবে শুধু অভিনয় নয়, সংলাপও জমেছিল ভালোই। মিঠুন জনতার সামনে ঘোষণা দেন, “২৩ ও ২৪ তারিখ থেকে আমি মাঠে নামছি। মানুষের সঙ্গে কথা বলব।” তিনি আরও বলেন, “পুলিশ যদি নিরপেক্ষ হয়, তাহলে দেখবেন বিজেপি কী করতে পারে।” এমন ভাষা শুনে অনেকেই বলছেন, উনি সত্যিই ‘শেষ লড়াই’তে নামছেন, যদিও তার আগের লড়াইগুলোরও শেষ কোথায় তা কেউ জানে না!

প্রশ্ন উঠছে, মোদির পা ছুঁয়ে এমন বক্তব্য দেওয়ার আগে কি তিনি ঠিকমতো স্ক্রিপ্ট হাতে পেয়েছিলেন? না কি মোদিজির উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে নিজের সন্ন্যাস মিশিয়ে তিনি হয়ে উঠছেন “উন্নয়ন যোগ্য রূপান্তরপুরুষ”?

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদির পক্ষেও দিনটি বিশেষ ছিল। তিনি প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। ভাষণে কালী ও দুর্গার কথা টেনে বাংলার আবেগে হাত রেখে বলেন, “বাংলার উন্নয়নই এখন প্রথম লক্ষ্য, আর বাংলার সংস্কৃতি হচ্ছে ভারতের অহংকার।” শুনে কেউ কেউ বললেন, “আহা! উন্নয়নও হবে, আর ভোটও পাবে, দুই হাত একসঙ্গে ধরা!”

তবে দর্শকের মনে প্রশ্ন একটাই—যে সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখে উন্নয়ন, সংস্কৃতি আর বাজেটের কথা থাকার কথা, সেখানে এক অভিনেতার হঠাৎ পা ছোঁয়া, আলিঙ্গন আর আবেগের ঢেউ—এসব কি সত্যিই দেশ চালায়, না ভোটের আগাম বিজ্ঞাপন মাত্র?

এই ঘটনা একদিকে যতটা আবেগময়, অন্যদিকে ততটাই কৌতুকপূর্ণ। একজন অভিনেতা, যিনি নানা রাজনৈতিক দলে ঘুরে শেষমেশ এখন বিজেপিতে, তিনি হয়তো নিজের স্টারডম হারিয়ে ‘স্নেহের কোলে’ জায়গা খুঁজছেন। আর বিজেপি? তারাও মঞ্চে একটার পর একটা চরিত্র বসিয়ে নাটকের দৃশ্যপট তৈরি করছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন নতুন ট্রেন্ড: “পা ছুঁয়ে পদ লাভ করুন”, “আলিঙ্গনে আত্মপ্রকাশ”, আর “নেতাকে জড়িয়ে ধরে নেতার মতো হোন।” একদম থিয়েটার রেডি প্লট!

দুর্গাপুরে রাজনীতি হয়েছে, না অভিনয়? প্রশ্ন রয়ে গেছে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT