লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে চার শিক্ষার্থী হত্যা মামলার আসামিদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিক্ষুব্ধ জনতা দুইজনকে মারধর করে, যার মধ্যে পরান চৌধুরী নামে এক যুবলীগকর্মীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
আজ রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আটক পরান লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
কী ঘটেছিল?
পুলিশ, আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ছাত্র আন্দোলনে নিহত চার শিক্ষার্থীর হত্যা মামলার আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবীর পাটওয়ারী, লক্ষ্মীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আহম্মদ পাটওয়ারী, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন আলমসহ গ্রেপ্তার আসামিদের প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।
এ সময় জামিনে থাকা আসামিসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কিছু নেতা-কর্মীও স্লোগান দেওয়া শুরু করেন, যা আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। ক্ষুব্ধ জনতা পরানসহ দুজনকে মারধর করে। এর মধ্যে একজন পালিয়ে গেলেও পরানকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভ
ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেন এবং শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ তোলেন। বিক্ষোভ শেষে বক্তব্য দেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আহমেদ ফেরদৌস মানিক এবং জেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মহসিন কবির মুরাদ।
পুলিশের বক্তব্য
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ জানান, আওয়ামী লীগের লিফলেট বিতরণের সময় পরানকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply