ভারতের কেরালা রাজ্যের কোচি শহরে ক্যানারা ব্যাংকের আঞ্চলিক অফিসে গরুর মাংস নিষিদ্ধের ঘটনায় কর্মীরা অভিনব প্রতিবাদ করেছেন। নিষেধাজ্ঞার জবাবে তারা ব্যাংক শাখার সামনেই গরুর মাংস ও পরোটা পরিবেশন করেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি বিহার থেকে বদলি হয়ে আসা ডেপুটি রিজিওনাল ম্যানেজার অশ্বিনী কুমার ওই শাখার দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি অফিসের ক্যান্টিনে গরুর মাংস পরিবেশন বন্ধের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে কর্মীদের হয়রানির অভিযোগও ওঠে।
প্রথমে প্রতিবাদটি ওই কর্মকর্তার হয়রানির অভিযোগ ঘিরে পরিকল্পনা করা হলেও গরুর মাংস নিষিদ্ধের খবর প্রকাশ্যে আসতেই আন্দোলনের মোড় ঘুরে যায়। ব্যাংক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অভ ইন্ডিয়া (বিইএফআই) এর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে কর্মীরা ক্যান্টিনের বাইরে গরুর মাংস রান্না ও পরিবেশন করে প্রতিবাদ জানান।
বিইএফআইয়ের এক নেতা জানান, খাদ্যাভ্যাস ব্যক্তিগত অধিকার, যা ভারতের সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। “আমরা কাউকে গরুর মাংস খেতে বাধ্য করছি না। কিন্তু ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।”
এ ঘটনায় কেরালার রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বামফ্রন্ট সমর্থিত স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা কে. টি. জলিল বলেন, “কে কী খাবে, কী পরবে বা কী চিন্তা করবে তা নির্ধারণ করার অধিকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেই। কেরালায় ‘সংঘী’ রাজনীতি চলবে না।” তিনি আরও জানান, এ ধরনের বাধার মুখে পড়লে অন্যদেরও পাশে দাঁড়ানো হবে।
কেরালার খাদ্যাভ্যাসে গরুর মাংস একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজ্যে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান—বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষই এটি খেয়ে থাকেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গরুর মাংস রাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাংস। ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকার কসাইখানায় বিক্রির জন্য গবাদি পশু কেনাবেচা নিষিদ্ধ করলে কেরালা জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ হয়েছিল। সে সময় গরুর মাংস উৎসব ও গণভোজের আয়োজন করা হয়।
কেরালায় ‘বিফ’ বলতে সাধারণত গরু ও মহিষের মাংস বোঝানো হয়। এ মাংস খাওয়ার সঙ্গে কোনো ধর্মীয় সীমাবদ্ধতা নেই।
তবে এখনো পর্যন্ত ক্যানারা ব্যাংকের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ ঘটনায় কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।