কালুখালীতে মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তথ্য অধিকারেও মেলেনি সঠিক হিসাব - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
তারেক রহমান: জুলাই গণ অভ্যুত্থানের শহীদ-আহতদের জন্য নতুন বিভাগ হবে ২০২৬ হজের জন্য হজযাত্রীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু আলিফ হত্যা মামলা- চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন, বিচার শুরু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল: উচ্চপর্যায় বৈঠকে অগ্রগতি ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার ২১ জানুয়ারির মধ্যে সিদ্ধান্ত চাইছে আইসিসি, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য অনিশ্চিত মাগুরার চিত্রা নদী থেকে উদ্ধার মুঘল আমলের তরবারি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দক্ষিণ স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: লাইনচ্যুতি ও সংঘর্ষে নিহত ২১, আহত শতাধিক দীর্ঘ ২৬ বছর পর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ রিপোর্টার্স ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা জম্মু-কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে সাত ভারতীয় সেনা আহত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের প্রার্থী রুমিন ফারহানাকে তলব

কালুখালীতে মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তথ্য অধিকারেও মেলেনি সঠিক হিসাব

মোঃ জাহিদুর রহিম মোল্লা, রাজবাড়ী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১১৫ বার দেখা হয়েছে

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ, জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের বাজেট খরচে অস্বচ্ছতা; পাঁচ বছর ধরে একই কর্মস্থলে কর্মকর্তার অবস্থান।

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষা, অবৈধ জাল বিনষ্ট, নিয়মিত বাজার তদারকি, জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি, মা ইলিশ রক্ষা অভিযান ও জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালনে নিয়মিত দায়িত্বপালনে ব্যর্থ হয়েছেন।

এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গত ১ জুলাই এক স্থানীয় সাংবাদিক তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন। আবেদনে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান, জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি এবং জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালনের বাজেট ও ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব চাওয়া হয়।

কিন্তু দীর্ঘ সময় গড়িমসি করে আবু বকর সিদ্দিক গত ৭ আগস্ট তথ্য প্রদান করেন। সেখানে তিনি কেবল বাজেটের মোট বরাদ্দ ও খরচের অঙ্ক উল্লেখ করেন, কিন্তু কোন খাতে কত খরচ হয়েছে—সেই বিস্তারিত তথ্য দেননি।

প্রদত্ত তথ্যে দেখা যায়—

  • জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ: ২০২৩ সালে ৬০ হাজার টাকা, ২০২৪ সালে ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পান এবং সমপরিমাণ খরচ দেখান।

  • জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি: ২০২৩ ও ২০২৪ উভয় বছরেই ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পান এবং খরচ দেখান।

  • মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান: ২০২৩ সালে ৫০ হাজার টাকা, ২০২৪ সালে ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ পান এবং খরচ দেখান।

তবে প্রাপ্ত বাজেট কোন খাতে কত ব্যয় হয়েছে, সেই বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন কর্মকর্তা তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকতে পারেন না। কিন্তু আবু বকর সিদ্দিক ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে কালুখালীতে যোগদানের পর এখনো পর্যন্ত একই কর্মস্থলে আছেন। তারা অভিযোগ করেন, তিনি “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ” করে টানা পাঁচ বছর ধরে একই পদে রয়েছেন। এ বিষয়ে তারা তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “আমি যা বরাদ্দ পেয়েছি তার সব খরচ করেছি। কোন খাতে কত খরচ করেছি তা আপনি দেখতে পারবেন না। আমাদের অডিট হয়, তখন তারা দেখবে। আপনি দেখার কেউ না।”

কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহুয়া আফরোজ বলেন,  “তথ্য জানার অধিকার দেশের সকল নাগরিকের রয়েছে। মৎস্য কর্মকর্তা এ ধরনের তথ্য দিতে বাধ্য। তিনি কেন বিস্তারিত দেননি তা আমার বোধগম্য নয়। অবশ্যই আপনার চাহিত তথ্য তিনি দিতে হবে।”

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT