
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা শুক্রবার বিকেল ৫টার পর হঠাৎ স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কমিশনের মধ্যে জরুরি বৈঠক চলছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য।
নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলম জানান, “আজকের লোকবল দিয়ে বিকেল নাগাদ হলভিত্তিক ভোট গণনার হিসাব শেষ করার কথা ছিল। রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে সম্পূর্ণ গণনা শেষ করে বেসরকারিভাবে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও হঠাৎ জরুরি বৈঠকের কারণে গণনা বন্ধ রাখা হয়েছে।”
নওয়াব ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক সুলতানা আক্তার অভিযোগ করেছেন, “প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণে আমার সহকর্মী সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যু হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যদি ম্যানুয়ালি গণনা না করে ওএমআর মেশিন ব্যবহার করা হতো, তাহলে হয়তো এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।”
নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১,৭৪৩ জন, যাদের মধ্যে প্রায় ৬৭–৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে ভোট গণনা শুরু হলেও আজ বিকেলে তা বন্ধ হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ফলাফল রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ঘোষণা করা হতে পারে।
জাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকটি প্যানেল ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। জামায়াত-সমর্থিত ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্যানেল, ছাত্র ইউনিটির প্যানেল ও স্বাধীন প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন ভোট বর্জন করেছেন। তাদের অভিযোগ, ভোটগ্রহণ ও গণনায় অনিয়ম হয়েছে, যার কারণে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থেকেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে। শিগগিরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।
এই নির্বাচন দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই প্রশাসনিক ও জনসাধারণের চোখ আকৃষ্ট করেছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, সময়মেনেজমেন্ট ও অভিযোগের যথাযথ সমাধান গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীদের আস্থা ভেঙে না যায়।