বুধবার (১৩ আগস্ট ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ বি এম আজিজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তারা বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে কিছু কন্ডিশন দিয়ে পোষ্য ভর্তি বহাল রাখা হয়েছে। পোষ্যদের ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪০% নম্বর পেতে হবে। কোনো পোষ্য যদি ভর্তি হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে এবং সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষকদের স্বামী-স্ত্রী ও ভাই-বোনদের জন্য থাকা কোটা বাতিল করা হয়েছে; এখন থেকে শুধু ঔরসজাত সন্তানরাই পোষ্য কোটার আওতায় ভর্তির সুযোগ পাবে।
প্রতিটি বিভাগে সর্বোচ্চ ৪ জন ভর্তি হতে পারবে। পূর্বে পোষ্য ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা নির্ধারিত না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪০ জনের অধিক ভর্তি করা যাবে না। এছাড়া ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সন্তানকে তার কর্মরত বিভাগে পোষ্য হিসেবে ভর্তি করানো যাবে না মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ২৬ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির অধ্যাদেশ অনুযায়ী, শুরুতে পোষ্য কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে পোষ্যদের জন্য লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ছিল ৪০ শতাংশ। কিন্তু ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে পাস নম্বর কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। আবার ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে তা আরও কমিয়ে ৩৩ শতাংশ করা হয়। এছাড়া ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে পোষ্য কোটাধারী শিক্ষার্থীদের জন্য আবশ্যিক বিষয়ে পাস নম্বর পাওয়ার বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পোষ্য কোটা বাতিল চেয়ে টানা ১৯ ঘণ্টার গণঅনশনের পর উপাচার্যের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান পোষ্য কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন, একইসাথে কর্মচারীদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা দেয়া হবে জানান তিনি। এসময় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পুনর্বিবেচনার জন্য একটি কমিটি গঠনের কথাও তখন জানান তিনি।
এদিকে উপাচার্যের মৌখিক ঘোষণায় বাতিলকৃত পোষ্য কোটা পুণর্বহালের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শিক্ষার্থীরা। পোষ্য ভর্তি পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তারা।
পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে গতকাল দুপুর আড়াইটা থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলেন নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৫২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল হালিম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচে আব্দুল হালিম অনশনে বসেছিলেন । তার পাশে একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা, “কোটা পুনর্বহালের নাটক চলবে না, জনাব” পরে পৌনে চারটার দিকে তিনি অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে।
এ বিষয়ে আব্দুল হালিম বলেন, আমার এই অবস্থান কর্মসূচির দাবি হচ্ছে সম্পূর্ণভাবে কোটা ব্যাবস্থা বাতিল করা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটা ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের সাথে নাটক করেছে। পোষ্য কোটা আবার ফিরিয়ে এনেছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে শিক্ষদের সন্তানরা যারা এত সুযোগ সুবিধা পায় কেন তাদের কোটা লাগবে। আমার বাবা একজন রাজমিস্ত্রি। আমি ভার্সিটির নামই শুনেছি ইন্টারমিডিয়টে ওঠার পরে। যদি পোষ্যকোটার মাধ্যমে কেউ ভর্তি হয় তাহলে আমাদের মতো দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা কি করবে? আমি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নই এবং যতদিন পর্যন্ত ভিসি স্যার এই কোটা সম্পূর্ণরূপে বাতিল না করে ততদিন আমি আমার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, পোষ্য কোটায় আবেদনকারী ভর্তিচ্ছুদের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ মিলত। প্রতি বিভাগে ৪ জন করে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন শিক্ষার্থী পোষ্য কোটায় ভর্তির সুযোগ পেতেন। যদিও বিগত পাঁচ বছরে এই কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৫ জন ছিল।