আটক ব্যক্তিরা হলেন- উজ্জ্বল বর্মন (২৭) এবং পূজা বর্মন (২৪)। তারা সাভারের নয়ারহাটে বসবাস করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মীর মশাররফ হোসেন হল এবং বোটানিক্যাল গার্ডেনের মাঝামাঝি রাস্তায় একটি গাড়ি পার্কিং করা ছিলো। গাড়ির অভ্যন্তরে আপত্তিকর অবস্থায় ছিলেন উজ্জল ও পূজা। শাখা ছাত্রদলের সদস্য রাজু হাসান রাজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডিকে অবহিত করেন। পরে প্রক্টরিয়াল বডি এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
ছাত্রদল নেতা রাজন জানান, আমি বঙ্গবন্ধু হল থেকে এমএইচ হলের দিকে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে বোটানিক্যাল গার্ডেন পার হয়ে একটি গাড়ি উল্টোভাবে পার্ক করা দেখতে পাই। গাড়ির ভেতরে লোক আছে বলে সন্দেহ হলে আমি গাড়ির দরজায় নক করি। এরপর গাড়ির পিছন দিক থেকে একজন ছেলে ও একজন মেয়ে বের হয়ে আসে।
তিনি আরো বলেন, আমি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত আছি এবং এর আগে এ ধরনের ঘটনার অর্থ আদায়ের হতো বলে শুনেছি —এই ধারণা থেকে আমি আরেকজনকে ডেকে আনি যাতে আমার উপর এধরণের অপবাদ না পড়ে। পরে তাদের জিজ্ঞেস করলে প্রথমে ছেলেটি দাবি করে, তারা স্বামী-স্ত্রী। তবে তাদের আচরণ দেখে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। এ অবস্থায় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ফোন করি।
আটক পূজা বর্মন ও উজ্জ্বল বর্মন জানান, আমরা জাহাঙ্গীরনগরে ঘুরতে আসছি। আমরা দু’জন ছোটবেলা থেকেই বন্ধু এবং এখানে আসার পর আমরা এমএইচ গেট দিয়ে প্রবেশ করি। এরপর আমরা সেখানে গাড়ি থামিয়ে বসে থাকি। উজ্জ্বল গাড়ির পেছনে এসে বসে কারণ আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলাম।এদিকে জাকসু নির্বাচন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বহিরাগত ও অননুমোদিত গাড়ি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারা কিভাবে প্রবেশ করেছেন জানতে চাইলে উজ্জল বলেন, আমরা এমএইচ গেইট দিয়ে প্রবেশ করার সময় সিকিউরিটি গার্ড আটকিয়ে জিজ্ঞাসা করলে হাফিজুর রহমান হাফিজ ভাইয়ের কথা বলে প্রবেশ করি। তিনি গার্ডকে ফোন করে আমাদের কথা বললে গার্ড আমাদের প্রবেশ করতে দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১ ব্যাচের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে নিরাপত্তা শাখার প্রধান জেফরুল হাসান চৌধুরী সজল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যেয়ে তাদেরকে আটক করে প্রক্টোরিয়াল টিম। পরে আটককৃত ছেলের ভাই আসলে তার কাছে তাকে সোপর্দ করা হয় এবং মেয়েটির মা আসলে তাকে তার মায়ের কাছে সোপর্দ করা হয়।