মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে জুলাই শহীদের স্মরণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন সাংগঠনিক, সামাজিক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সমালোচনা করতে দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীরা বলছে, ছাত্র ইউনিয়নের মতো একটি ঐতিহাসিক, ক্রিয়াশীল ও সচেতন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ও নীতি বিবর্জিত। ছাত্র ইউনিয়ন যদি জুলাইকে অস্বীকার করে শহীদ মিনারে ফুল দেয় তাহলে এই সংস্কৃতি ক্যাম্পাসে চালু হওয়ার আশংকা করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাবিতে সক্রিয় গণ-অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহবায়ক আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্মিত “অদম্য-২৪” স্মৃতিস্তম্ভটি ইতোমধ্যে সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা জনাব আদিলুর রহমান খান স্মৃতিস্তম্ভটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এটি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত একটি প্রতীকী ও ঐতিহাসিক স্থাপনা, তাই তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ক্ষেত্রে এটিই হওয়া উচিত ছিল একমাত্র উপযুক্ত স্থান। অথচ ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ কেউ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছেন, যা উদ্দেশ্যমূলক ও বিভ্রান্তিকর বলেই প্রতীয়মান হয়।”
তিনি বলেন, “অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এসে এসব বিষয় নিয়ে যদি আমরা একটি সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত না হই, তবে আন্দোলনের মূল চেতনা ও অর্জন ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে “অদম্য-২৪” স্মৃতিস্তম্ভের মর্যাদা ও গুরুত্ব অনুধাবন করে এখান থেকেই শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো উচিত বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।”
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রাব্বি হাসান বলেন, “অদম্য ২৪ তো শুধু একটা ভাস্কর্য নয়, এটি আমাদের আন্দোলনের ইতিহাসের অংশ। জুলাই শহীদদের স্মরণে ফুল দিলে সেটিই হওয়া উচিত ছিল সম্মান জানানোর স্থান। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো হলেও এটি অদম্য ২৪ কে উপেক্ষা করার মতোই মনে হয়েছে। ছাত্র ইউনিয়নের মতো সচেতন সংগঠনের কাছ থেকে এমনটা আশা করিনি।”
অভিযোগের বিষয়ে জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অদ্রি অংকুর বলেন, “আপনি নিশ্চয় জানেন আমাদের শহীদ মিনারের স্ট্রাকচার আমাদের জাতীয় জীবনের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে জড়িত নানা আন্দোলনকে নির্দেশ করে।শহীদ মিনারের ৮টা সিঁড়ি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভূমিকা রাখা ৮টি সংগ্রামকে নির্দেশ করে।আমরা তো এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান কে আওয়ামী স্বৈরাচার থেকে স্বাধীনতার অভ্যুত্থান বলে অবিহিত করছি।”
তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের এই শহীদ মিনারে স্মরণ করা সাংঘর্ষিক বলে আমরা মনে করছি না। সে কারণেই আমাদের শহীদ মিনারে যাওয়া বলে তিনি মন্তব্য করেন।”