ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ ও আওয়ামী লীগের সহযোগী দল ‘জাতীয় পার্টি’কে নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং প্রধান ফটকের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।
এসময় শিক্ষার্থীদের ‘আমাদের সংগ্রাম চলছে চলবে’, ‘জুলাই যোদ্ধাদের রক্ত বৃথা যেতে দিবো না’, ‘আমার ভাই আহত কেন ইন্টিরিম জবাব চাই ’, ‘লীগ গেছে যেই পথে জাপা যাবে সেই পথে’, ‘ভারতীয় ষড়যন্ত্র রুখে দাও দিতে হবে’, ‘কণ্ঠে আবার লাগা জোর ফ্যাসিবাদের কবর খোঁড়’, ‘৫ আগস্টের হাতিয়ার গর্জে ওঠো আরেকবার ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন,‘যখন নির্বাচনের আমেজ চলে এসেছে তখনি আওয়ামী পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং জুলাই যোদ্ধা নুরের উপর আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সহযোগী সংগঠন জাতীয় পার্টি হামলা করেছে। যাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আওয়ামী সরকার ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলো তারাই আজ নুরের উপর হামলা করেছে। আমরা কখনো ভারতীয় আধিপত্য মেনে নেয়নি। অতি দ্রুত দলটিকে নিষিদ্ধ করতে হবে। কার অনুমতি নিয়ে সেনাবাহিনী হামলা করেছে তার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিচার করতে হবে। আওয়ামী লীগের বৈধতা দানে জাপা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে অথচ জুলাই বিপ্লবের এক বছর পরেও কেন জিএম কাদেরকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি?
তারা দাবি জানান, আওয়ামী সরকারের তিনটি অবৈধ নির্বাচনে বৈধতা দেয়া জাপাকে অন্তত ৩ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ইন্টেরিম সরকার যদি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারেন তাহলে আগামীকালই আসসালামু আলাইকুম বলে দেশত্যাগ করুন।
সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে তারা বলেন, বিপ্লবে হাজারো শহিদ হলেও আপনারা কি দেখাতে পারবেন সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য আহত বা নিহত হয়েছে। তারা জনগণের উর্ধ্বে নয়, জনগনের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জুলাই যোদ্ধারা আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নুরের উপর হামলার ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে আওয়ামী পুনর্বাসনের পথ খুলে যাবে।
জুলাই যোদ্ধা ও সাবেক শাখা সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, ‘যাদের নেতৃত্বে জুলাই বিপ্লব হয়েছে তাদের মধ্যে নুরুল হক নূর অন্যতম শক্তি। সবসময় তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলে গেছেন। তার ওপর হামলায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। ব্যক্তিগত ভাবে সেনাবাহিনীকে সন্দেহের চোখে দেখি। আওয়ামী আমলে নিয়োগ পাওয়া বাহিনীরা শেখ হাসিনার গোলামি করে যাচ্ছে। ছাত্র প্রতিনিধিদের আহ্বান করবো আপনারা চেয়ার ছেড়ে জনতার কাতারে আসুন। নুরের ওপর হামলা একটা টেস্ট মাত্র। তারা দেখতে চাচ্ছে যে একজন জুলাই বিপ্লবের ওপর হামলা করে পার পাওয়া যাবে কি-না এবং আমরা এক আছি কি-না তা দেখতে চাচ্ছে। কিন্তু আমরা ছাত্র জনতা আওয়ামী ও তাদের সহযোগী দোসরদের বিরুদ্ধে এক।’