ভাড়ার তর্কে ইবি ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ, জনি পরিবহনের বাস আটক - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
মধ্যযুগীয় বর্বরতা বনাম অধুনাকালিক বর্বরতা খামেনি নিহত! যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তোলপাড় ইরান ‎সিমাগো র‌্যাঙ্কিংয়ে সারাবিশ্বে ১ হাজারে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কুবিতে ছাত্রীদের জন্য প্রথমবার চালু হচ্ছে ‘উইমেন’স কর্নার’ ​কুবিতে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ইফতার বিতরণ কর্মসূচি কুবিতে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের নতুন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. নাছির উদ্দিন কুবিতে বিজ্ঞান অনুষদের ২৮ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড কুবিতে প্রথম মেধা তালিকার ভর্তি সময় বৃদ্ধি কুবির সিএসই বিভাগের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বালিয়াকান্দিতে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর উদ্যোগে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান

ভাড়ার তর্কে ইবি ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ, জনি পরিবহনের বাস আটক

মিজানুর রহমান, (ইবি প্রতিনিধি)
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ১০৩ বার দেখা হয়েছে

বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রীকে মারধর ও হেনস্তা করেছে বাসের সহকারী। এ নিয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক থেকে পাঁচটি বাস আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে কুষ্টিয়া থেকে ক্যাম্পাস ফেরার পথে জনি পরিবহনের একটি বাসে ভুক্তভোগী ছাত্রীর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। পরে তার বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিচার দাবিতে রূপসা পরিবহনের চারটি ও জনি পরিবহনের একটি বাস ক্যাম্পাসে আটকে রাখেন।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানান, চৌরহাস বাসস্ট্যান্ডে ‘জনি’ বাসের হেলপার একটি মেয়ের ফোন কেড়ে নিয়ে তার গায়ে হাত দিয়েছে। সেখানে অনেকেই ছিল, কিন্তু আমি ছাড়া কেউ কিছু বলেনি।

ভুক্তভোগী ছাত্রী জানান, “জনি বাসে ওঠার সময় আমি ২৫ টাকা ভাড়া বলি। বাসে ওঠার পর আমার থেকে ৪০ টাকা নেওয়া হয়। আমি ২৫ টাকা বলার পর হেলপার আমাকে ‘অশিক্ষিত মহিলা’ বলে গালিগালাজ করে। আমার শিক্ষাগত পরিচয় নিয়ে কথা বলায় তর্কের একপর্যায়ে আমি আমার স্বামীকে ফোন দিতে মোবাইল বের করি। তখন সে আমার ফোন কেড়ে নেয়, এতে আমার হাতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরে আমি তার কলার ধরলে সে আমার মুখে ঘুষি মারে। আমার বাবা-মাকে নিয়েও গালিগালাজ করে এবং আমার ভিডিও করে নিয়ে যায়। আশেপাশে অনেক মানুষ থাকলেও কেউ প্রতিবাদ করেনি।”

তিনি আরও জানান, “ওই ব্যক্তি অবশ্যই আসবে এবং আমি পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করব। নারী নির্যাতনের মামলা করব। এই ঘটনার বিচার না হলে আমি এখান থেকে যাব না।”

দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফকরুল ইসলামের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমাদের সহপাঠীর সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, তার সুষ্ঠু বিচার চাই। যতক্ষণ না ওই বাস হেলপারের শাস্তি হয়, ততক্ষণ আমরা বাস ছাড়ব না।”

লোক প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফকরুল ইসলাম বলেন, “একজন নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কীভাবে আচরণ করতে হয়, তারা এখনো শেখেনি। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। সে শুধু আমার বিভাগের না, সে পুরো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই।”

জনি পরিবহনের বাস মালিক আনিস মিয়া বলেন, “প্রক্টর স্যারের কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বাস মালিক সমিতিকে অবগত করেছি। তারা প্রতিনিধি পাঠিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, “মালিক সমিতি ও বাস মালিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা ক্যাম্পাসে প্রতিনিধি পাঠাবে। তারপর সবাই মিলে বসে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT