‘হারুনের ভাতের হোটেল’ কক্ষটি এখন কি কাজে ব্যবহার হচ্ছে - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
ড্রোন হামলার আশঙ্কা, বন্ধ দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইরানের হামলায় তেল আবিবে আতঙ্ক: মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে আন্ডারগ্রাউন্ডে গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্র হত্যা: গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় রনিকে মেরে লাশ পুড়িয়ে দেয় ছাব্বির কুবিতে প্রথমবার জাতীয় বিতর্ক উৎসব, অংশ নেবে ৫৬টি দল আত্রাইয়ে স্ত্রী–সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, পরে স্বামীর আত্মহত্যা নিজ অফিসে ইবি শিক্ষিকাকে হত্যার বিচারের দাবিতে ইবিতে বিক্ষোভ মিছিল কুবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য আটক ইবিতে শিক্ষিকা খুন, কর্মচারীর আত্মহননের চেষ্টা ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক ভূমি অফিস পরিদর্শন, কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে ক্ষোভ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

‘হারুনের ভাতের হোটেল’ কক্ষটি এখন কি কাজে ব্যবহার হচ্ছে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫
  • ১৩৬ বার দেখা হয়েছে

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের আলোচিত ‘ভাতের হোটেল’ এখন শুধুই অতীত। একসময় ডিবি কার্যালয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিশিষ্টজনদের আপ্যায়নের জন্য ব্যবহৃত এই কক্ষটি এখন নিয়মিত দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হারুন অর রশীদ পলাতক। বর্তমানে ডিবিপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রেজাউল করিম মল্লিক। ডিবির কর্মকর্তারা ‘হারুনের ভাতের হোটেল’ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে অনাগ্রহী।

‘হারুনের ভাতের হোটেল’ যেভাবে আলোচনায় আসে

২০২২ সালের জুলাই মাসে হারুন অর রশীদ ডিবির অতিরিক্ত কমিশনারের দায়িত্ব নেন। পরের বছর, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে আপ্যায়ন করা হয়, এমনকি হারুন নিজে খাবার পরিবেশন করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এরপর থেকে ‘হারুনের ভাতের হোটেল’ নামে পরিচিতি পায় ডিবির ওই কক্ষটি।

এরপরও একাধিকবার বিভিন্ন ব্যক্তিকে ডিবি কার্যালয়ে এনে আপ্যায়ন করা হয় এবং সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস ও সংগীত পরিচালক কৌশিক হোসেন তাপসসহ বিভিন্ন টিকটকার, ব্লগার ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের আপ্যায়নের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

ডিবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ উঠলে হারুন অর রশীদ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “কেউ চাইলে এটিকে ভাতের হোটেল বলতে পারেন, এতে আমাদের মনোবল ভাঙবে না। এটি আমাদের মানবিক দিক।”

জাতিকে নিয়ে মশকরা করা হয়েছে’

২০২৩ সালের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। আদালতে হাজির না করে তাদের আপ্যায়নের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে বলেন, “টিভিতে দেখেছি, তারা কাঁটাচামচ দিয়ে খাচ্ছে।” এ সময় আদালত মন্তব্য করেন, “জাতিকে নিয়ে মশকরা কইরেন না।”

ডিবির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে নতুন উদ্যোগ

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “ডিবিতে আর কোনো ভাতের হোটেল থাকবে না।”

বর্তমান ডিবিপ্রধান রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, “হারুনের কর্মকাণ্ডের ফলে ডিবির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে এখন পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সেই অবস্থান পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। ডিবি এখন সাধারণ মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠছে।”

ভাতের হোটেলের’ সেই কক্ষের বর্তমান ব্যবহার

প্রতিবেদক সম্প্রতি ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে ‘হারুনের ভাতের হোটেল’ হিসেবে পরিচিত কক্ষটি পরিদর্শন করেন। ডিবির পুরোনো ভবনের দোতলায় অবস্থিত কক্ষটিতে এখন কোনো আপ্যায়নের ব্যবস্থা নেই। সেখানে এখন দাপ্তরিক সভা ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশের কক্ষেই বসেন বর্তমান ডিবিপ্রধান রেজাউল করিম মল্লিক।

ডিবি কর্মকর্তারা জানান, কখনো সেখানে ছোট পরিসরে সভা হয়, কখনো আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হারুনের আমলের ‘ভাতের হোটেল’ সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করা হয়েছে বলে জানান তারা।

  • দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ এর সর্বশেষ নিউজ পড়তে ক্লিক করুন: সর্বশেষ
  • দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ এর ফেসবুক পেজটি ফলো করুন: dailysabasbd

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT