ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: কাঁটাতারে ঝুলে আছে বিচার, হতাশ বাবা-মা - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
খালেদা জিয়ার মৃত্যু কি ‘স্লো পয়জনিং’? বিস্ফোরক অভিযোগ জানালেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক মালদ্বীপে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিয়ে হাইকমিশন–ইমিগ্রেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক যাকাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ১০ বছরে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব: ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেন গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন, ব‍্যারিস্টার নাজির আহমদ সমাজের গুণী ব্যক্তি, দেশের সম্পদ: বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী কুবিতে আদিবাসী ছাত্র সংসদের নবীন বরণ ও প্রবীণ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হাদি হত্যার বিচার দাবিতে কুবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিল স্কটল্যান্ড অনারারি কনসাল জেনারেল ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিই’র সম্মানে এমজেএম গ্রুপের বিশাল সংবর্ধনা ইট–কংক্রিটের ভিড়ে বার্ডের ফুলবাগান: নীরব সৌন্দর্যে প্রাণের আশ্রয় ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন এমবিই নেতৃত্বে সিলেট জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম এর সাথে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুবিস্থ চট্টগ্রাম স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে শরিফুল-ফয়সাল 

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: কাঁটাতারে ঝুলে আছে বিচার, হতাশ বাবা-মা

সাবাস বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৮ বার দেখা হয়েছে

আজ ৭ জানুয়ারি। ভারতের কাঁটাতারে ঝুলে থাকা কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার ১৫ বছর পূর্ণ হলো। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো ন্যায়বিচার পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার। বিচার চেয়ে বছরের পর বছর ধরে ভারতের বিএসএফ কোর্ট থেকে শুরু করে উচ্চ আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও হতাশ ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হয় ১৪ বছর বয়সী ফেলানী খাতুন। নিহত হওয়ার পর সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারের সঙ্গে ঝুলে ছিল তার নিথর দেহ। সেই দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

নাগেশ্বরী উপজেলার নাখারগঞ্জ ইউনিয়নের কলোনিটারী গ্রামের নুরুল ইসলাম ও জাহানারা বেগম দম্পতি জীবিকার তাগিদে মেয়েকে নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। পরে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হলে দেশে ফেরার পথে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

ঘটনার দুই বছর পর ২০১৩ সালে ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে বিচার শুরু হলেও অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে দুই দফায় খালাস দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট দায়ের করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে তা নিষ্পত্তি হয়নি।

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, “১৫ বছর হয়ে গেল, এখনো বিচার পাইনি। চোখের সামনে মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে, তার বিচার কি কোনোদিন হবে না?” তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও মামলার কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছেন না।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ফেলানী শুধু আমার মেয়ে না, সে আমার মা। তার বিচার না হলে আর কত মা এভাবে কাঁদবে?” তিনি দাবি জানান, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, যেন এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হয়।

ছয় সন্তানের পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নুরুল ইসলাম। সন্তানদের পড়ালেখার ব্যয় নির্বাহে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ফেলানী হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের বেদনা নয়, এটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রতীক। ১৫ বছর পরও কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীর সেই ছবি আজও প্রশ্ন তোলে—কবে মিলবে ন্যায়বিচার?

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT