ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: কাঁটাতারে ঝুলে আছে বিচার, হতাশ বাবা-মা - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া ঘাটে নেই ভোগান্তি নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের জমকালো আয়োজনে বুটেক্সে শুরু হলো অ্যালামনাই সুপার কাপ রাজবাড়ীর কালুখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু আইসিএমএবি ও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত রাজবাড়ী সদরে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষকের সম্মাননা পেলেন সহকারী অধ্যাপক মাসুদুজ্জামান বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বেত্রাঘাতে হসপিটালে ছাত্র, শিক্ষক অবরুদ্ধ পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে ঝলসে গেলেন মনিরা ড. রশিদুন্ নবীর হাতে উঠছে বাংলা একাডেমির ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জাককানইবির নতুন উপাচার্য Casino Winbeast – ce qu’il faut savoir

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: কাঁটাতারে ঝুলে আছে বিচার, হতাশ বাবা-মা

সাবাস বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪৪ বার দেখা হয়েছে

আজ ৭ জানুয়ারি। ভারতের কাঁটাতারে ঝুলে থাকা কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার ১৫ বছর পূর্ণ হলো। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো ন্যায়বিচার পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার। বিচার চেয়ে বছরের পর বছর ধরে ভারতের বিএসএফ কোর্ট থেকে শুরু করে উচ্চ আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও হতাশ ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হয় ১৪ বছর বয়সী ফেলানী খাতুন। নিহত হওয়ার পর সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারের সঙ্গে ঝুলে ছিল তার নিথর দেহ। সেই দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

নাগেশ্বরী উপজেলার নাখারগঞ্জ ইউনিয়নের কলোনিটারী গ্রামের নুরুল ইসলাম ও জাহানারা বেগম দম্পতি জীবিকার তাগিদে মেয়েকে নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। পরে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হলে দেশে ফেরার পথে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

ঘটনার দুই বছর পর ২০১৩ সালে ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে বিচার শুরু হলেও অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে দুই দফায় খালাস দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট দায়ের করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে তা নিষ্পত্তি হয়নি।

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, “১৫ বছর হয়ে গেল, এখনো বিচার পাইনি। চোখের সামনে মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে, তার বিচার কি কোনোদিন হবে না?” তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও মামলার কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছেন না।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ফেলানী শুধু আমার মেয়ে না, সে আমার মা। তার বিচার না হলে আর কত মা এভাবে কাঁদবে?” তিনি দাবি জানান, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, যেন এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হয়।

ছয় সন্তানের পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নুরুল ইসলাম। সন্তানদের পড়ালেখার ব্যয় নির্বাহে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ফেলানী হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের বেদনা নয়, এটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রতীক। ১৫ বছর পরও কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীর সেই ছবি আজও প্রশ্ন তোলে—কবে মিলবে ন্যায়বিচার?

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT