
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৬০৬ জন। এর মধ্যে ১৬৭ জন ভর্তি আছেন এবং গুরুতর আহত ১৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া রোগীদের যুক্ত করলে আহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুরান ঢাকার কসাইটুলিতে ভবনের রেলিং ধসে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন—স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম (২০), আব্দুর রহিম (৪৮) এবং তার ছেলে মেহরাব হোসেন (১২)। এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক। রাজধানীর মুগদার মদিনাবাগে নির্মীয়মাণ ভবনের রেলিং মাথায় পড়ে মারা যান নিরাপত্তাকর্মী মাকসুদ (৫০)।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেয়াল চাপা পড়ে প্রাণ গেছে ১০ মাস বয়সী শিশু ফাতেমার। পরিবারটি ইসলামবাগ এলাকার ক্যানেলসংলগ্ন বসতঘরে থাকতেন।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে। সদর উপজেলার গাবতলীতে নির্মাণাধীন ভবনের ইট ধসে একই পরিবারের চারজন আহত হন—এর মধ্যে ঢাকায় নিলে শিশু ওমর (৮) মারা যায়। পরে তার বাবা দেলোয়ার হোসেনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান। দুই বোন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পলাশ উপজেলার মালিতা পশ্চিমপাড়ায় মাটির ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন প্রবীণ কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫)। শিবপুরে গাছ থেকে পড়ে মারা গেছেন ফোরকান মিয়া (৪৫)। ডাঙ্গা ইউনিয়নে আতঙ্কে স্ট্রোক করে প্রাণ হারিয়েছেন নাসিরউদ্দিন (৬৫)—এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন।
ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া মাত্র ভবন দুলতে শুরু করলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দ্রুত রাস্তায় নেমে আসেন। বিভিন্ন এলাকায় পুরনো ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা গেছে এবং এখনো ক্ষয়ক্ষতি–সম্পর্কিত নতুন তথ্য আসছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশঙ্কা—ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
সংকটের এই সময়ে উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের একযোগে মাঠে নামা আবারও প্রমাণ করেছে—দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সম্মিলিত শক্তিই সবচেয়ে বড় ভরসা।