ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫ সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে ক্যাম্পাসের ভেতর-বাহিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি ভোটকেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং আবাসিক হলে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
মঙ্গলবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ডাকসু ও হল পর্যায়ের সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থীদের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা, অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা, অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর, সহযোগী অধ্যাপক শারমীন কবীরসহ বিভিন্ন হলের রিটার্নিং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিরাপত্তার প্রথম স্তরে দায়িত্ব পালন করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি সদস্য ও প্রক্টরিয়াল টিম, দ্বিতীয় স্তরে থাকবে পুলিশ বাহিনী এবং তৃতীয় স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি প্রবেশমুখে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন থাকবে। সেনাবাহিনী প্রয়োজন হলে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে এবং ভোট শেষে ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র ঘেরাও করে রাখবে। ভোট গণনার সময় অনুমোদিত ব্যক্তিদের বাইরে অন্য কারও প্রবেশের সুযোগ থাকবে না।
অন্যদিকে, নির্বাচনের সাত দিন আগে থেকেই হলে কোনো বহিরাগত থাকতে পারবে না। নিয়মিত টহলের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাত্রীদের হলে বহিরাগত থাকার নিয়ম আগে থেকেই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন বন্ধ থাকবে। ওই দিন পুরো ক্যাম্পাস সিলগালা থাকবে এবং শুধুমাত্র বৈধ শিক্ষার্থী, অনুমোদিত সাংবাদিক ও নির্বাচন পরিচালনায় যুক্ত ব্যক্তিরাই প্রবেশ করতে পারবেন।
ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের ভোটদানে অংশগ্রহণের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত বাস ট্রিপ চালু করবে এবং এসব বাস নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে পুলিশ সহযোগিতা করবে। নিরাপত্তা বিষয়ক এসব সিদ্ধান্তে সভায় উপস্থিত সব প্রার্থী সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কেউ কোনো আপত্তি তোলেননি।