
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল বুধবার ভোরে ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলে ভিপি, জিএস ও এজিএস—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদেই জয়ী হয়েছেন শিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা।
ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন সাদিক কায়েম। তিনি মোট ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে যান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল-সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৫৮ ভোট। অন্যদিকে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের উমামা ফাতেমা পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৭৬ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন ৩ হাজার ৬০০ ভোট, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী জোটের আবদুল কাদের ৮৪২ ভোট এবং বিন ইয়ামিন মোল্লা ৯৭ ভোট পেয়েছেন।
জিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন শিবির-সমর্থিত এস এম ফরহাদ। তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার ৯৮১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত তানভীর বারী হামীম পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৭২ ভোট। এ ছাড়া প্রতিরোধ পর্ষদের মেঘ মল্লার বসু পেয়েছেন ৪ হাজার ৬২১ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আরাফাত চৌধুরী ১ হাজার ৯৪৬ ভোট এবং বৈষম্যবিরোধী জোটের আবু বাকের মজুমদার পেয়েছেন ১ হাজার ৮০২ ভোট।
এজিএস পদে জয়ী হয়েছেন শিবির-সমর্থিত মহিউদ্দিন খান। তিনি পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৫৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত মাহবুব রহমান পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৭৫ ভোট। প্রতিরোধ পর্ষদের শরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৪৪ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নুসরাত জাহান পেয়েছেন ২ হাজার ৪৫৮ ভোট।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছিল—কার্জন হল, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, টিএসসি, ভূতত্ত্ব বিভাগ, ইউ ল্যাব স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিনেট ভবন, উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কেন্দ্র। এরপর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত প্রতিটি হলে পৃথকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
হলভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, অধিকাংশ হলে সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদ বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিলেন। তবে জগন্নাথ হলে ভিপি পদে ছাত্রদল-সমর্থিত আবিদুল ইসলাম ও জিএস পদে মেঘ মল্লার বসু এগিয়ে থাকেন। তবুও সামগ্রিক ফলাফলে শিবির-সমর্থিত জোটের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভোটের পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১৮টি হলে গড়ে সন্তোষজনক হারে ভোটার উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ লাইন ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ফলাফল ঘোষণার পর শিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল বের করেন এবং একে “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা” হিসেবে অভিহিত করেন।