চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ জট কমে শূন্যের কোটায়, লাখ লাখ ডলার সাশ্রয় - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
সীমান্তে তীব্র গুলি বিনিময়, পাকিস্তান–আফগানিস্তান উত্তেজনা চরমে জাককানইবিতে সমুদ্র ও জলবায়ু–বিষয়ক ‘Exploring the Blue Earth’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত দুধকুমার নদে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপ, স্বস্তিতে তীরবর্তী বাসিন্দারা ইবিতে জুলাই বিপ্লববিরোধী অভিযোগে ফের ৯ শিক্ষক বরখাস্ত নানিয়ারচর জোন (১৭ই বেংগল) এর মানবিক উদ্যো‌গে বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম নির্বাহী পরিচালক হলেন মো. সাদি উর রহিম জাদিদ আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে ইবিতে আলোচনা সভা জামায়াতের মনোনয়নে কে এই হিন্দু প্রার্থী ভারত ছাড়তে তড়িঘড়ি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল পশ্চিমবঙ্গে বেওয়ারিশ কুকুরের প্রহরায় বেঁচে গেল পরিত্যক্ত নবজাতক

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ জট কমে শূন্যের কোটায়, লাখ লাখ ডলার সাশ্রয়

সাবাস বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার দেখা হয়েছে

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রযুক্তিগত উদ্যোগ ও ডেলিভারি প্রক্রিয়ায় গতি আনার পদক্ষেপের ফলে বহির্নোঙরে থাকা পণ্যবাহী জাহাজের গড় অবস্থানকাল শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এখন আমদানি পণ্য নিয়ে আসা বাল্ক ও কনটেইনার জাহাজগুলো কোনো বিলম্ব ছাড়াই প্রধান জেটিতে বার্থিং সুবিধা পাচ্ছে, যা শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য লাখ লাখ ডলার সাশ্রয় নিশ্চিত করছে।

গত আগস্টে চট্টগ্রাম বন্দর তীব্র জাহাজ জটে পড়েছিল। মাদার ভ্যাসেলগুলো প্রধান জেটিতে বার্থিং পাওয়ার জন্য ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত বহির্নোঙরে অপেক্ষা করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অন্তত ১৫টি জাহাজকে বহর থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিল।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ জানান, “পরিবহন ধর্মঘট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কলমবিরতি এবং বিভিন্ন ছুটি মিলিয়ে শিপিং খাতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে বিভিন্ন পক্ষের সহযোগিতায় সেই সমস্যা সমাধান হয়েছে।”

সেপ্টেম্বর থেকে বন্দরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ফেরার পর জাহাজ জট ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। এখন প্রতিটি পণ্যবাহী জাহাজ বহির্নোঙর থেকে সরাসরি প্রধান জেটিতে প্রবেশ করছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, “অক্টোবরে কোনো জাহাজকে বহির্নোঙরে অপেক্ষা করতে হয়নি এবং নভেম্বরেও সেই ধারা বজায় রয়েছে। কার্যকর কৌশল ও পদ্ধতি মেনে চলার ফলেই এই পরিস্থিতি সম্ভব হয়েছে।”

আগে প্রতিটি জাহাজকে বহির্নোঙরে রাখার জন্য প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার ড্যামারেজ দিতে হতো। এখন জট কমার ফলে ব্যবসায়ীরা সেই অতিরিক্ত খরচ থেকে মুক্তি পেয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, “ওয়েটিং টাইম কমায় বন্দর, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ সবাই সুবিধা পাচ্ছে। আগে এক জাহাজ যদি ৫-৬ দিন অপেক্ষা করত, শিপিং এজেন্টদের ফিক্সড খরচ বেড়ে যেত, যা ভোক্তাদের ওপরও প্রভাব ফেলে।”

জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যেও উন্নতি দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে এ সময়ে ১২ লাখ কনটেইনার এবং ৪ কোটি ৫২ লাখ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। একই সময় ১ হাজার ৪২২টি পণ্যবাহী জাহাজ এসেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।

চট্টগ্রাম বন্দর বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, “জাহাজের ওয়েটিং টাইম কমায় বন্দরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা কমেছে। ফলে অপারেশনাল কার্যক্রম দ্রুত হচ্ছে এবং খরচও অনেকটা সাশ্রয় হচ্ছে।”

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে গড়ে ১৫টি জাহাজ প্রধান জেটিতে বার্থিং সুবিধা পাচ্ছে। প্রতিদিন আমদানি-রফতানির প্রায় ৮ হাজারের বেশি কনটেইনার ওঠানামা হচ্ছে, যার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার কনটেইনার সরাসরি বন্দর থেকেই ডেলিভারি করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT