ভৈরবে জেলা ঘোষণার দাবিতে রেল অবরোধ, উপকূল এক্সপ্রেসে বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষেপ - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা আদর্শিক নেতৃত্বই জাতিকে এগিয়ে নেয়—আফগানিস্তানের উন্নয়ন তার প্রমাণ: মামুনুল হক নোয়াখালীতে তাহাজ্জুদের সময় ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু ভারত অনুমতি না দেওয়ায় বুড়িমারীতে ভুটানের ট্রানজিট পণ্য আটকে অরুণাচলে মসজিদে ঢুকে ইমামকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলাতে চাপ গেজেট বঞ্চনার প্রতিবাদে ইবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘The Voice of JKKNIU’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত ঢাবিতে ৩০ নভেম্বর থেকে সকল ক্লাস অনলাইনে — শীতকালীন ছুটি অনিশ্চিত ঝিনাইদহে কুলখানি–বিতর্কে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত, লন্ডনে চিকিৎসা নিতে পারেন খালেদা জিয়া

ভৈরবে জেলা ঘোষণার দাবিতে রেল অবরোধ, উপকূল এক্সপ্রেসে বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৬ বার দেখা হয়েছে

সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জেলা ঘোষণার দাবিতে রেলপথ অবরোধ করে স্থানীয়রা। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে এ কর্মসূচি। এতে নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভৈরব রেলওয়ে জংশনে দুই ঘণ্টার বেশি সময় আটকা পড়ে। অবরোধ চলাকালে ট্রেন ছাড়তে চাইলে আন্দোলনকারীরা বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। এতে ট্রেনের কয়েকটি জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং অন্তত এক যাত্রী আহত হন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই শতাধিক মানুষ হাতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ভৈরব বাজার রেলওয়ে জংশনে অবস্থান নেন। তারা ভৈরব উপজেলা জেলা করার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন এবং রেলপথের ওপর অবস্থান নিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন। সকাল ১০টার পর রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। উপকূল এক্সপ্রেস ছাড়াও আরও কয়েকটি ট্রেন স্টেশন এলাকায় আটকে পড়ে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ট্রেন ছাড়তে চাইলে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা পাথর নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে ট্রেনের যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহম্মেদ বলেন, “অবরোধকারীরা ট্রেন থামিয়ে কর্মসূচি পালন করছিলেন। পরে ট্রেন ছাড়ার সময় কিছু অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।” তিনি আরও বলেন, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

এর আগে গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ভৈরবের দুর্জয় মোড়ে জেলা ঘোষণার দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা। এতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে। দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।

রেলপথ অবরোধ করে ভৈরবকে জেলা ঘোষণার দাবি

স্থানীয় আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ভৈরবের ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা করার দাবি দীর্ঘদিনের। তারা দাবি না মানা পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার ভৈরবের মেঘনা নদীতে নৌপথ অবরোধেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ ও হামলার ঘটনায় ভৈরবের রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়, যার প্রভাব পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটের ট্রেন চলাচলেও। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT