
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ১০টি গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে বুনো হাতির তাণ্ডবে কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ভোররাত পর্যন্ত হাতির পালটি লোকালয়ে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে ভারত থেকে কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে ৩০-৪০টি হাতির একটি পাল ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের গারো পাহাড়ে আসে। রাতের বেলায় লোকালয়ে এসে বিভিন্ন গাছপালা, সবজি ক্ষেত ও বোরো ধান খেয়ে বিনষ্ট করে। তাড়াতে গেলেই বাড়িঘরে হামলা চালায়। গত কয়েক দিনে আমিনুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, আল মামুন, মাসুদ মিয়া, ইয়াকুব আলী, মুসা মিয়াসহ প্রায় ৩০ জন কৃষকের ফসল ও গাছপালা বিনষ্ট করেছে হাতির পাল। আবার সকালে পাহাড়ের উঁচু টিলায় অবস্থান নেয়।
বালুরচর সাতানীপাড়া এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তার প্রায় ২০ একর জমিতে কৃষি খামার রয়েছে। দিনভর পাহাড়ের টিলায় অবস্থান করলেও সন্ধ্যা হলেই নেমে আসে লোকালয়ে। রাতভর তাণ্ডব চালিয়ে ভোরবেলা আবার উচুঁ টিলায় চলে যায়। গত কয়েকদিনে তার কৃষি খামারের প্রায় তিন একর জমির ফসল বিনষ্ট করেছে হাতি। এ বছর ফসল নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান।
কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, গত ১০-১১ দিন যাবত হাতির পাল পাহাড়ের টিলায় অবস্থান করছে। রাতে নেমে আসছে লোকালয়ে। ফসল বাঁচাতে রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে। আগুন জ্বালিয়ে ও ডাকঢোল পিটিয়ে তাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু হাতির তাণ্ডব থামানো যাচ্ছে না।
কৃষক আল মামুন ও ইয়াকুব আলী বলেন, প্রতিবছরই হাতি আমাদের ফসল বিনষ্ট করে। ধান পাকা শুরু হলে হাতি আসে। এবার আগেই চলে এসেছে। ফসলের ক্ষতির কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে এ এলাকার মানুষের।
ধানুয়া কামালপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাপ জামাল বলেন, সীমান্তে হাতিই এখন বড় সমস্যা। সময় অসময়ে হাতির পাল লোকালয়ে নেমে গাছপালা, ফসল এমনকি বাড়িঘরেও হামলা চালাচ্ছে। এই সমস্যা আসলে দীর্ঘদিনের। হাতি সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠনের নেতা রাহুল রাকসাম বলেন, হাতির ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারে না এলাকার মানুষ। সারাক্ষণ আমরা শঙ্কিত থাকি, কখন জানি হাতি লোকালয়ে এসে তাণ্ডব চালায়। হাতি সমস্যা স্থায়ী সমাধানের জন্য মানববন্ধনসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও কোন কাজ হয়নি। হাতি সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান চাই আমরা।
ডুমুরতলা বিট কর্মকর্তা রকিবুল হাসান রকিব বলেন, খাবার জন্যই লোকালয়ে নেমে আসে হাতির পাল। হাতির কবল থেকে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বাঁচাতে বনবিভাগের পক্ষ থেকে টর্চ লাইট, বাদ্যযন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেয়া হয়েছে। এরপরেও হাতি যদি কৃষকের ফসল এবং বাড়িঘর ক্ষতি করে তাহলে বনবিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। হাতি মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে বনবিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হাতির তাণ্ডবের কারণে তারা আতঙ্কিত। ফসল রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন।
এদিকে, বনবিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাতির আক্রমণ ঠেকাতে তারা স্থানীয়দের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। তবে, হাতির তাণ্ডবের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগের পক্ষ থেকে হাতির আক্রমণ ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তবে, হাতির তাণ্ডবের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।