বান্দরবানে সেনা অভিযানে কেএনএ ঘাঁটি ধ্বংস - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
সড়ক সংস্কারের দাবিতে ইবি শিক্ষার্থীদের কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ ভোলা বরিশাল সেতুর দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা আদর্শিক নেতৃত্বই জাতিকে এগিয়ে নেয়—আফগানিস্তানের উন্নয়ন তার প্রমাণ: মামুনুল হক নোয়াখালীতে তাহাজ্জুদের সময় ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু শেষ হলো কুবির পঞ্চম ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন ভারত অনুমতি না দেওয়ায় বুড়িমারীতে ভুটানের ট্রানজিট পণ্য আটকে অরুণাচলে মসজিদে ঢুকে ইমামকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলাতে চাপ গেজেট বঞ্চনার প্রতিবাদে ইবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘The Voice of JKKNIU’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত

বান্দরবানে সেনা অভিযানে কেএনএ ঘাঁটি ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৯৩ বার দেখা হয়েছে

বান্দরবানের রুমা উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় সশস্ত্র সংগঠন বম পার্টি বা কথিত কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ/KNF)-এর একটি প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ও স্থানীয় সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত এক মাসব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় এবং ঘাঁটিটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আইএসপিআর-এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৫ জুলাই থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত রুমার দুর্গম রেং ত্লাং এলাকায় সেনাবাহিনী একটি বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সীমান্তবর্তী জনবসতিহীন অঞ্চলে কেএনএ-র প্রশিক্ষণ ঘাঁটি শনাক্ত করে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত কাঠের রাইফেল, স্নাইপার অস্ত্রের সিলিং, মিলিটারি বেল্ট, কার্তুজ বেল্ট, ওয়াকিটকি চার্জার, সোলার প্যানেল, ইউনিফর্ম, বুট, রসদ এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ মাঠ, ফায়ারিং রেঞ্জ, পরিখা ও অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনাও সেনারা দখল করে নেয়।

এ ছাড়া সম্প্রতি জুলাইয়ের শুরুতে রুমার পোলিপাংসা—মালফিপাড়া এলাকায় আরেকটি অভিযানে কেএনএ সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়। এতে সংগঠনের দুইজন সদস্য নিহত হন, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন ‘মেজর পুটিং/ডললি’ নামে পরিচিত এক কমান্ডার স্তরের সদস্য। এ সময় সেনাবাহিনী তিনটি সাব-মেশিন গান, একটি রাইফেল, বিপুল গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন, কেএনএ ইউনিফর্ম এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করে।

অভিযানের প্রভাবে পূর্বে সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে পালিয়ে যাওয়া স্থানীয় বম জনগোষ্ঠীর অন্তত ১২৬টি পরিবার নিরাপত্তা ফিরে আসায় আবার নিজ গ্রামে ফিরে গেছে। এতে পাহাড়ি এলাকায় স্থিতিশীলতা ও জনজীবনে স্বস্তি ফিরছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

প্রসঙ্গত, কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ২০০৮ সালে ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (কেএনডিও) হিসেবে যাত্রা শুরু করে এবং ২০১৭ সালে কেএনএফ নামে পুনর্গঠিত হয়। সংগঠনটির সশস্ত্র শাখা কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) পার্বত্য অঞ্চলে বহুদিন ধরে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতেও সশস্ত্র সংগঠন ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT