
কুমিল্লা শহরের ধর্মসাগর পাড় এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হামলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) একাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
কুমিল্লা শহরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন ইসফাত ভুঁইয়া, ইরফান চৌধুরী সাদিক ও কাজী অনিত।
বুধবার (৪ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে তাদের আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই টিটু কুমার নাথ।
জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. হোসাইন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী সায়েদ হাসান কুমিল্লা শহরের ধর্মসাগর পাড় এলাকায় হাঁটার সময় শপিং ব্যাগের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা ওই দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় ফৌজদারি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা সাহায্যের জন্য ডাক দেন। বাস থেকে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা নেমে তাদের উদ্ধার করতে গেলে হামলাকারীরা আবারও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান শিপন আহত হন।
পরবর্তীতে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে তাদের আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. হোসাইন বলেন, “আমি ছোট বোনের জন্য শপিং করে ফিরছিলাম। তখন আমার শপিং ব্যাগ কারও গায়ে লাগাকে কেন্দ্র করে একজন ছেলে আমার পেছনে এসে আমাকে মারধর করে। পরে আমাকে এবং আমার বন্ধুকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দেখে আমার বন্ধু গাড়ি থেকে নেমে বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের ডেকে আনে। পরে আরও পাঁচ-ছয়জন এসে আমাদের ঘিরে ফেলে। তাদের হাতে দা ও ছুরি ছিল। তবে আমরা সংখ্যায় বেশি থাকায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।”
আহত শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান শিপন বলেন, “আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাইকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে তারা আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমি বাধা দিতে গেলে একজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে আমার হাত কেটে যায়। এরপর আমরা তাদের তিনজনকে ধরে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হামলা করেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে। পরে তাদের পুলিশে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে।”
কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই টিটু কুমার নাথ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানিয়েছে।”