নোটিশ:
শিরোনামঃ
সড়কে মৃত্যু কমাতে অভিযান নয়, স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা চাই এআই প্রতিযোগিতায় ডিপসিকের প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ সেরা পরিস্থিতিতেও উষ্ণতা ১.৭–১.৮ ডিগ্রি বাড়তে পারে: জাতিসংঘ তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে টাইফুন চ্যাম্পি, বাতিল দুই শতাধিক ফ্লাইট হুতি হামলায় সরবরাহ উদ্বেগ, তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চে PHP ত্রুটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে হ্যাকিং প্রচেষ্টা বেড়েছে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টন গম সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনে রিপোর্টেড আলিস আল ইসলাম বাংলাদেশ-নেপালে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, সূচি ঘোষণা সাইবার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িক বন্ধ

বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় আবারও অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৫৪ বার দেখা হয়েছে
ড. সাইদুর রহমান

সম্প্রতি প্রকাশিত এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি/মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে তালিকাভুক্ত বিশ্বের ৩৩ হাজার ৩৭১ জন বিজ্ঞানীর মধ্যে এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে উঠে আসেন অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও তিনি একই র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে ছিলেন, যা তার গবেষণায় ধারাবাহিক সাফল্য ও স্থিতিশীল উৎকর্ষের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মূল্যায়নেও তার গবেষণার প্রভাব স্পষ্ট। স্কলারজিপিএস ২০২৫ অনুযায়ী টেকসই জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি গবেষণায় তিনি বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করেন। একই বছরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের যৌথ বিশ্লেষণে প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় মালয়েশিয়ার বিজ্ঞানীদের মধ্যে এনার্জি গবেষণায়ও তিনি শীর্ষস্থানে ছিলেন।

গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষা ও উদ্ভাবনে অবদানের স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। সানওয়ে ইউনিভার্সিটি থেকে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনে উৎকর্ষতা পুরস্কার এবং শিক্ষাদানে শিক্ষার্থীদের কৃতজ্ঞতা স্বীকৃতি লাভ করেন অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান। এছাড়া, ২০২৫ সালের ওবাদা পুরস্কারে ‘বিশিষ্ট বিজ্ঞানী’ ক্যাটাগরিতে তিনি সম্মানিত হন। ওই বছর বিশ্বব্যাপী মাত্র আটজন বিজ্ঞানী এ পুরস্কার লাভ করেন, যাদের একজন তিনি।

গবেষণাগত প্রভাবের দিক থেকেও তার অবস্থান শক্ত। গুগল স্কলারের তথ্য অনুযায়ী, তার এইচ-ইনডেক্স ১৪৫ এবং গবেষণায় সাইটেশনের সংখ্যা ৮৬ হাজারের বেশি। তিনি ময়মনসিংহ জেলার সন্তান এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন।

এর আগে ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নিজ গবেষণা ক্ষেত্রে শীর্ষ ১ শতাংশ গবেষক হিসেবে অবস্থান করায় ক্ল্যারিভেট অ্যানালিটিক্স তাকে বিশ্বসেরা গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তার গবেষণা কার্যক্রম মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃকও স্বীকৃত। এমএক্সিন-ভিত্তিক ন্যানোম্যাটেরিয়াল গবেষণায় স্কোপাস ডেটা বিশ্লেষণে মালয়েশিয়ায় প্রথম এবং ন্যানোফ্লুইড গবেষণায় ওয়েব অব সায়েন্স অনুযায়ী বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জনের নজিরও রয়েছে তার ঝুলিতে।

তরুণ গবেষকদের অনুপ্রাণিত করতে ২৮ বছরের গবেষণা অভিজ্ঞতা তিনি নিয়মিতভাবে অনলাইন সেমিনার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে ভাগ করে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায়ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন তিনি। নিজ উদ্যোগে ১৫ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয়ে সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে একটি আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন করেছেন, যেখানে জ্বালানি প্রযুক্তি, উন্নত উপাদান, এনার্জি স্টোরেজ, সৌর শক্তি ও বিশুদ্ধ পানি উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা চলছে।

জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সরকার তাকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) সম্মাননা প্রদান করে।

এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান বলেন,

“এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তির নয়। শিক্ষার্থী, গবেষণা দল, সহকর্মী, প্রতিষ্ঠান ও অর্থায়নকারী সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।”

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT