ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: কাঁটাতারে ঝুলে আছে বিচার, হতাশ বাবা-মা - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্র হত্যা: গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় রনিকে মেরে লাশ পুড়িয়ে দেয় ছাব্বির কুবিতে প্রথমবার জাতীয় বিতর্ক উৎসব, অংশ নেবে ৫৬টি দল আত্রাইয়ে স্ত্রী–সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, পরে স্বামীর আত্মহত্যা নিজ অফিসে ইবি শিক্ষিকাকে হত্যার বিচারের দাবিতে ইবিতে বিক্ষোভ মিছিল কুবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য আটক ইবিতে শিক্ষিকা খুন, কর্মচারীর আত্মহননের চেষ্টা ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক ভূমি অফিস পরিদর্শন, কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে ক্ষোভ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কুবিতে শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের লক্ষ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন কুবির নটরডেমিয়ান পরিবারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: ১১০ এতিম শিশুর সঙ্গে ইফতার

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: কাঁটাতারে ঝুলে আছে বিচার, হতাশ বাবা-মা

সাবাস বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৯৫ বার দেখা হয়েছে

আজ ৭ জানুয়ারি। ভারতের কাঁটাতারে ঝুলে থাকা কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার ১৫ বছর পূর্ণ হলো। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো ন্যায়বিচার পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার। বিচার চেয়ে বছরের পর বছর ধরে ভারতের বিএসএফ কোর্ট থেকে শুরু করে উচ্চ আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও হতাশ ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হয় ১৪ বছর বয়সী ফেলানী খাতুন। নিহত হওয়ার পর সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারের সঙ্গে ঝুলে ছিল তার নিথর দেহ। সেই দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

নাগেশ্বরী উপজেলার নাখারগঞ্জ ইউনিয়নের কলোনিটারী গ্রামের নুরুল ইসলাম ও জাহানারা বেগম দম্পতি জীবিকার তাগিদে মেয়েকে নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। পরে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হলে দেশে ফেরার পথে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

ঘটনার দুই বছর পর ২০১৩ সালে ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে বিচার শুরু হলেও অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে দুই দফায় খালাস দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট দায়ের করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে তা নিষ্পত্তি হয়নি।

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, “১৫ বছর হয়ে গেল, এখনো বিচার পাইনি। চোখের সামনে মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে, তার বিচার কি কোনোদিন হবে না?” তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও মামলার কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছেন না।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ফেলানী শুধু আমার মেয়ে না, সে আমার মা। তার বিচার না হলে আর কত মা এভাবে কাঁদবে?” তিনি দাবি জানান, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, যেন এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হয়।

ছয় সন্তানের পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নুরুল ইসলাম। সন্তানদের পড়ালেখার ব্যয় নির্বাহে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ফেলানী হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের বেদনা নয়, এটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রতীক। ১৫ বছর পরও কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীর সেই ছবি আজও প্রশ্ন তোলে—কবে মিলবে ন্যায়বিচার?

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT