
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘ’ সম্মেলন শেষ হয়েছে। ‘কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি মডেল ইউনাইটেড ন্যাশনস’ কর্তৃক আয়োজিত এ সম্মেলনে এবার দেশের ৩০টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন। তিনি বলেন, বিশ্ব এখন আন্তঃনির্ভরশীল; তাই কোনো সমস্যাই এককভাবে জাতীয় সমস্যা নয়। বৈশ্বিক সংকট, সংঘাত বা নীতি—সব কিছুই আন্তর্জাতিকভাবে পরস্পর-সম্পর্কযুক্ত।
২৭ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে জাতিসংঘ কাঠামো অনুসরণে ছয়টি বিশেষায়িত কমিটির অধীনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটিগুলো হলো—জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি), সাধারণ পরিষদ-১ (ডিআইএসইসি), মানবাধিকার পরিষদ (ইউএনএইচআরসি), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট (বিএফআইইউ), আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা (আইপিসি) এবং ঐতিহাসিক সংকট কমিটি (এইচসিসি)।
সমাপনী বক্তব্যে ড. সোহরাব উদ্দীন আরও বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছোট হলেও শিক্ষার্থীরা বড় স্বপ্ন দেখতে জানে। তাদের সাহসী উদ্যোগের কারণে এত বড় জাতীয় আয়োজনে সফলতা এসেছে।
কুবি ছায়া জাতিসংঘ সংস্থার সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ চিন্ময় জানান, গত আগস্টে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই জাতীয় পর্যায়ের একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা শুরু হয়। কমিটির সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই এ আয়োজন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
১৯২০ সালে লিগ অব নেশনসের সিমুলেশন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল মডেল ইউনাইটেড নেশনস ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে হার্ভার্ড মডেল ইউনাইটেড নেশনসের মাধ্যমে প্রতীকী জাতিসংঘ সম্মেলনের রীতির সূচনা হয়। পরবর্তীতে এটি বিশ্বব্যাপী তরুণদের কূটনীতি, আলোচনাশৈলী ও নীতি-গঠন অনুশীলনের অন্যতম জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।