
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তবে ৫ ও ১২ ফেব্রুয়ারিও বিকল্প তারিখ হিসেবে বিবেচনায় আছে।
ইসি পরিকল্পনা করছে তফসিল ঘোষণা ও ভোটগ্রহণের মধ্যে প্রায় দুই মাস ব্যবধান রাখতে। এজন্য আগামী ৭ বা ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তফসিল ঘোষণা করবেন।
সংসদ নির্বাচন ও সাংবিধানিক সংস্কারবিষয়ক গণভোট একই দিনে আয়োজনের ঘোষণা আগেই দেন প্রধান উপদেষ্টা। গণভোট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন—‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ ইতোমধ্যে জারি হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে সাদা ব্যালট ও গণভোটে রঙিন ব্যালট ব্যবহার হবে।
হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন।
পুরুষ: ৬ কোটি ৪৮ লাখ
নারী: ৬ কোটি ২৮ লাখ
তৃতীয় লিঙ্গ: ১,২৩৪ জন
এ ছাড়া প্রবাসীরাও পোস্টাল ব্যালটে দুই ধরনের ভোট দিতে পারবেন। এবার প্রথমবার ভোট দেবেন পাঁচ কোটিরও বেশি তরুণ।
দেশজুড়ে ৪২,৭৬১টি কেন্দ্র ও ২,৪৪,৭৩৯টি বুথের তালিকা চূড়ান্ত।
নিরাপত্তায় থাকবেন ৮ লাখেরও বেশি সদস্য, এর মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে ১ লাখ সদস্য। পুরো দেশকে লাল–হলুদ–সবুজ জোনে ভাগ করা হয়েছে।
শনিবার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে মক ভোটিং হবে—একই সঙ্গে দুই ধরনের ভোট পরিচালনায় সময়, বুথ সংখ্যা ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় যাচাই করার জন্য।
ইসি এবার বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে—
আদালত ঘোষিত পলাতক কেউ প্রার্থী হতে পারবে না
একক প্রার্থী এলাকায় ‘না’ ভোট ব্যবস্থার প্রবর্তন
প্রার্থীদের বিদেশি সম্পদ ঘোষনা বাধ্যতামূলক
আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ১.৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ৬ মাস কারাদণ্ড
নির্বাচনি অনিয়ম প্রমাণ হলে পুরো এলাকার ভোট বাতিল করা যাবে
পোস্টার নিষিদ্ধ; শুধু ছোট প্রচারপত্র বিতরণ করা যাবে
এআই-সংক্রান্ত ভুয়া প্রচারকে নির্বাচনি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত
প্রবাসী ভোটারদের জন্য প্রথমবার অ্যাপের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এআই–ভিত্তিক ভুয়া তথ্য রোধে একটি বিশেষ সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং ডেস্ক গঠন করা হবে।
ইসি ইতোমধ্যে ব্যালট বাক্সসহ ২৭ ধরনের সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে। প্রয়োজন হলে গণভোটের জন্য অতিরিক্ত বাক্স তৈরি করা হবে। তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী তালিকা, জোট, প্রচার কৌশল, ইশতেহার প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত। বিএনপি প্রাথমিকভাবে ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য তালিকা প্রস্তুত করেছে; জামায়াত ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে ১৫০ আসনে পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। কয়েকটি ইসলামি ও বাম দল শরিক হচ্ছে বিএনপির সঙ্গে; অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আটটি ইসলামি দল। নতুন একটি জোট গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে ৫, ৮ বা ১২ ফেব্রুয়ারি। এর মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারিই সবচেয়ে আলোচনায়। আগামী ৪–৫ দিনের মধ্যে তফসিল ও ভোটগ্রহণের চূড়ান্ত তারিখ জানানো হবে।